- ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড
- বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ
নীলফামারীর চার উপজেলার উপর দিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ৮ শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের তান্ডবে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন। মাটির সঙ্গে লেপ্টে গেছে কাঁচা পাকা বোরো ধান।
নীলফামারী পৌর এলাকার মধ্য হাড়োয়া স্লুইচ গেট পাড়ার মৃত অলিমুদ্দীনের ছেলে সুলতান আলী বলেন, ঝড়ের তান্ডবে আমার জামাতার দুটি ঘর উড়ে গিয়ে কমপক্ষে ৫০ হাত দূরে পড়েছে। এ সময় ঘরের মধ্যে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র কোথায় গিয়ে পড়েছে তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা বাজার এলাকার ফয়মুল্লার ছেলে আব্দুস সামাদ বলেন, আকস্মিক ঝড়ে আমার সেমিপাকা ঘরের উপরের সব টিন উড়ে গেছে। আমার জীবনে এ রকম ভয়ঙ্কর ঘুর্ণিঝড় আর দেখি নাই। ঝড়ে আমার ঘরের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার মতো এ এলাকায় অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। একই বাজারের আ. হামিদের ছেলে জুয়েল বলেন, বাজারে আমার একটি বয়লারের দোকান ঘর ছিল। যা ঝড়ে ভেঙ্গে পড়েছে।
এদিকে ঝড়ের তান্ডবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নীলফামারী নেসকো লিমিটেডের ১১টি ফিডারের মধ্যে পাঁচটি ফিডার আংশিক চালু করা সম্ভব হয়েছে। ছয়টি ফিডার এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ লাইনের উপর ছোট বড় অসংখ্য গাছ উপড়ে ও ভেঙ্গে পড়েছে। কোথাও কোথাও খুটি উপড়ে পড়েছে। ছিড়ে গেছে তার। এসব ঠিক করতে বেশ সময় লাগবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী নওশাদ আলম।
নীলফামারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম বলেন, গত রাতে নীলফামারী সদর, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও ডোমার উপজেলার উপর দিয়ে আকস্মিক বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে আট শতাধিক পরিবারের কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কের উপর গাছপালা ভেঙ্গে পড়ায় সামিয়িকভাবে বন্ধ ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের জন্য ৪৩মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি ।









