বিশ্বব্যাপী দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বের ১শ’র বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। বিশেষজ্ঞরা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে মাত্র ১৫ সেকেন্ডই পাশের জন আক্রান্ত হতে সময় লাগে। প্রাণঘাতি ভাইরাসটিকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বাংলাদেশেও তিন ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর পর থেকে করোনা ইস্যুতে আলোচনায় উঠে এসেছে কক্সবাজার।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) তথ্যানুযায়ী, দেশে যে তিনজন ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন ইটালি থেকে করোনা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। অপরজন তাদের সংস্পর্শে আক্রান্ত হন। এমতাবস্থায় কক্সবাজরে অবস্থানরত বিদেশি নাগরীকদের স্বদেশ যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন কক্সবাজারবাসী।
সূত্রে জানাগেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ- উখিয়ায় আশ্রয়রত মিলয়ন রোহিঙ্গা ও চলামান উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে এখানে চিন জাপানহসহ প্রায় তিনহাজার বিদেশি অবস্থান করছে। কক্সবাজারে অবস্থানরত বিদেশীদের অনেক দেশেই ভয়াবহ করোনার বিস্তারলাভ করেছে। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। এর পরও এসব বিদেশি নাগরীকদের নিজ দেশে যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশীদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয় এনজিও কর্মীরা বলছে,এখনো কক্সবাজারে অবস্থানরত বিদেশীরা তাদের নিজ দেশে নিয়মিত আসা যাওয়া করছে। এনজিও কর্মীরা জানান, কিছুদিন পর পরই সুযোগ পেলেই বিদেশি নাগরীকরা নিজ দেশ গিয়ে কিছুদিন থাকার পর আবার বাংলাদেশে ফিরে আসছেন। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরকদের অবস্থাও একই। এতে করে দেশের বিমানবন্দরে যতই থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের চেষ্টা করা হোক না কেন বিদেশীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস আমদানির ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
করোনা ইস্যুতে কক্সবাজারে অবস্থানরত বিদেশি নাগরীকরা নিজ দেশে গেলে তাদের আর ফিরতে না দেয়ার দাবি জানিয়েছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা চান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যেসব বিদেশীরা নিজ দেশে যাবে বা গিয়েছে, তাদের যেন সেখানেই থাকতে বাধ্য করেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন নাগরীকদের দাবি, বিদেশী নাগরীকদের যদি এসময় স্বদেশে যাওয়ার পর আবার বাংলাদেশে আসার সুযোগ দেয়া হয় করোনা আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, করোনা মোকাবিলায় সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তারই অংশ হিসেবে বিমান ও টেকনাফ স্থলবন্দরে জোরদার রয়েছে মেডিকেল টিম।
তিনি আরোও জানান,আকাশ ও নৌ পথে আসা দেশি- বিদেশি সবাইকে করোনাভাইরাস শনাক্তে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি সকল যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষা করছেন মেডিকেল টিমের সদস্যরা। কেউ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে রামু ও চকরিয়ায় প্রস্তুুত রাখা হয়েছে, একশো শয্যার আইসোলেশন ইউনিট। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
আনন্দবাজার/এম.কে









