আসামের ধুবড়ি জেলার কারাগারে প্রায় দুমাস আটক থাকার পরে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের বকুল মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরেছে। চলতি মাসের ১ তারিখে জেলখানায় হার্ট অ্যাটাক করেন বকুল মিয়া।
মে মাসের শুরুতে আরো ২৫ জনের সাথে ধুবড়ি জেলায় বকুল মিয়া ধরা পড়েন। তারা আসামের জোড়হাট থেকে একটি ছোট ট্রাক ভাড়া করে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধ সীমান্তের দিকে আসছিলেন। লকডাউনের মধ্যে কোথায় যাচ্ছেন এতজন একসঙ্গে, সেই খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে ভারত সরকার সেকথা জেনেই তারা সীমান্তের দিকে এগোচ্ছিলেন। তারপরেও গ্রেপ্তার করা হয় বকুল মিয়া সহ ২৬ জন বাংলাদেশিকে।
নিহত বকুল মিয়ার জামাই জলিল মিয়া জানিয়েছেন, আমি মানছি তারা লকডাউন অমান্য করেছিল। তবে তাদের সবার তো বৈধ ভিসা ছিলো। ওই ঘটনার পরেই ধুবড়ির পুলিশ বলেছেন, পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে এসে তারা রোজগার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেটা ভিসার নিয়ম ভঙ্গ। সেজন্যই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের।
তবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বর্ডার ভিক্টিমস লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফোরামের নেতা অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন জানান, তারা কাজ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু লকডাউনের সময় জীবনধারনের জন্য বাধ্য হয়েছিলেন রোজগার করতে। বেচে থাকার জন্যই তারা উপার্জন পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি ভারত রাষ্ট্রের সাথে আমাদের দেশের সুসম্পর্কের কথা মাথায় রেখে ওই ২৫ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত। দুই দেশের জন্য একটা ভাল উদাহরণ হবে সেটা। এদের দেশে ফেরানোর দাবি যেমন বাংলাদেশে উঠেছে, তেমনি এই খবরটি ইতোমধ্যে পৌঁছেছে ভারতের মানবাধিকার কমিশনেও।
সংগঠনটির প্রধান কিরীটি রায় জানিয়েছেন, বকুল মিয়ার মৃত্যুকে হত্যাই বলব আমি। সেখানে পুলিশ প্রশাসন একটা গর্হিত কাজ করেছে। হেপাজতে কারও মৃত্যু হলে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করাতে হয়। তবে সেটা না করে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করেছে।
কিরীটি রায় জানান,বকুল মিয়ার ব্যাপারটা আমরা মানবাধিকার কমিশনে জানিয়েছি। আমাদের অভিযোগটা গ্রহণ করে আসামের মুখ্য সচিব, ধুবড়ির জেলা শাসক আর পুলিশ সুপারিন্টেডেন্টের রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।
গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী দূতাবাস দেখা করেছে বন্দীদের সঙ্গে। জেলার লিগ্যাল এইড সেল থেকে তাদের হয়ে লড়ার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। আবার মানবাধিকার সংগঠনগুলোও আলাদা আইনজীবী দিয়েছে। আগামী সোমবার মামলার শুনানি হওয়ার কথা আছে।
আনন্দবাজার/এফআইবি









