নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন ব্যবসা। তবে চাহিদা বেড়েছে মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রীর। জীবন বাঁচাতে মানুষ আসল-নকল যাচাই করেই কেনার চেষ্টা করছে। তবে বাজারে এত বেশি নকল পণ্য সরবরাহ হয়েছে যে ক্রেতারা নকলটাই আসল ভেবে কিনছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নকল ও ভেজাল সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি বন্ধে অভিযান চালালেও এসব পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হচ্ছে না।
একটি অভিজাত শপিংমলের মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতো শাকিল। তবে করোনা পরিস্থিতিতে দোকান বন্ধ থাকায় চীন থেকে এন-৯৫ মাস্ক এনে বিক্রি করছেন তিনি। তিনি বলেন, আসল নকল আমি চিনি না। হ্যান্ডসেট বিক্রি বন্ধ, তাই কিছু করে সংসার চলছে।
শাকিলের মত ব্যবসায়ীরা নকল কেএন-৯৫, এন-৯৫ মাস্ক বিক্রি করায় চরম হুমকিতে পড়ছে জন-জীবন। জানা যায়, নকল মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রির অপরাধে গত ২২ জুন ঢাকার মোস্তফা কামাল নামের এক খুচরা ব্যবসায়ীকে এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা গেছে, গত ১০ জুন নিউমার্কেটের ৪টি দোকানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এবং রাজধানীর পান্থপথে এএসএম ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ নকল গ্লাভস ও গাউন জব্দ করেছে র্যাব। এ সময় ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও গোডাউন সিলগালা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) ক্রয় বিভাগের সহকারী পরিচালক মেজবাউর রহমান জানান, আমরা চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করছি। বাজারে কিভাবে নকল মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে আমার জানা নেই।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, অনেকেই বিদেশ থেকে মানহীন পণ্য এনে অভিজাত ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করছে। এসব নকল পণ্যই বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে।
এ প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিদফতরের ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, ভেজাল ও নকল বিরোধী অভিযান চলছে, ভবিষ্যতেও চলবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আনন্দবাজার/টি এস পি









