ওমানি টুপি তৈরিতে জড়িত হাজারো নারী
বাহারি টুপি বানিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন লক্ষীপুরের কয়েক হাজার নারী। গৃহবধূরা সংসারিক কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। এতে তাদের সংসারে ফিরেছে আর্থিক সচ্ছলতা।
কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই যেকেউ খুব সহজে কাজটি করতে পারায় এ অঞ্চলের নারীদের কাছে টুপি তৈরি বর্তমানে পেশায় পরিণত হয়েছে। তাদের বুনন করা এসব বাহারি ডিজাইনের টুপি দেশের বিভিন্ন জেলা এবং ওমানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
টুপির কাজ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন এখানকার কয়েক হাজার নারী। তবে সরকারি বা কোনো দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে এ পেশায় আরও নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশী প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
সদর উপজেলার মিয়ারবেড়ী, পূর্ব চরমনসা ও কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, চরফলকনের বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতেই কেউ না কেউ সংসারের কাজের ফাঁকে নারীরা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা টুপি বানিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রামগতি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও একই চিত্র দেখা যায়। তারা অবশ্য এ টুপিকে ‘ওমানি টুপি’ বলে থাকেন।
রামগতি পৌরসভার সাহাপাড়া, চরহাসান হোসেন ও পন্ডিত পাড়াতে এ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন প্রায় শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী। নির্দিষ্ট নকশার ওপর নানা রঙের সুতায় তারা যে টুপি বুনে চলেছেন, এ টুপি ওমানে ‘কুপিয়া’ নামে পরিচিত। সাধারণত ‘কেন্দুয়া’র (পাঞ্জাবির মতো পোশাক) সঙ্গে কুপিয়া পরেন সেখানকার পুরুষেরা। তাদের দাবি, সরকারি বা কোনো দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে এ পেশায় আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, সঙ্গে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।
সদর উপজেলার পূর্ব চরমনসা গ্রামের আলমগীর ব্যাপারির বাড়িতে দীর্ঘ দিন থেকে টুপি নকশীর কাজ করছেন সুমী, পান্না, পাখি, নুপুর, জোৎস্নাসহ অনেকে। তারা বলেন, নিজেদের উদ্যোগে টুপি বুনিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছি। একটি টুপি বুনতে সময় লাগে কারো তিন সপ্তাহ, কারো চার সপ্তাহ। আর একটি টুপি বুনে পাই ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। তবে, যে দাম নির্ধারণ করে আমাদের টুপির কাজ দেওয়া হয়, শেষে সে দাম দেওয়া হয় না।
একই এলাকার মারজাহান, পারুল ও সুরমা জানান, এ এলাকায় ২০০ নারী টুপি তৈরির কাজ করেন। পার্শ্ববর্তী মিয়ারবেঁড়ী এলাকায় একই ধরনের টুপি বানানোর কাজে যুক্ত আরও প্রায় ২০০ নারী। টুপির নকশা, কাপড় ও সুতা-সবকিছুই সরবরাহ করা হয় তাদের। নকশা অনুযায়ী হাতের কাজ করা একেকটি টুপির জন্য গ্রামের একেকজন নারীকে দেওয়া হয় ৭০০ থেকে হাজার টাকা। পারিশ্রমিকের তারতম্য হয় কাজের গুণ ও মান অনুযায়ী।
টুপি তৈরির কাজে যুক্ত হওয়ায় মেয়েরা সংসারে কিছুটা হলেও আর্থিক সাহায্য করতে পারছেন। প্রত্যন্ত গ্রামে এটা অনেক বড় ব্যাপার। এতে সংসারে নারীর মর্যাদা বাড়ছে। এ ধরনের কাজের ফলে পরিবার, সমাজ এমনকি দেশও উপকৃত হচ্ছে। রামগতি কমলনগরের যেসব মানুষ নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ঠাঁই নিয়েছেন পরের জায়গায়, সেসব মানুষের প্রায় বাড়িতেই টুপি বুননের কাজ করেন নারীরা। এসব নারীকে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণসহ সহযোগিতা করলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জোবেদা খানম বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক । নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে।’ এসময় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
আনন্দবাজার/এম.আর









