চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত থেকে প্রায় ১১কেজি রুপার গহনা জব্দ
কোনক্রমেই থামানো যাচ্ছে না চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে সোনা ও রুপা পাচার। গত শনিবার ভারতে পাচারের সময় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে প্রায় ১১ কেজি রুপার গহনা জব্দ করেছে বিজিবি। শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার কামারপাড়া সীমান্ত থেকে এসব রুপার গহনা জব্দ করা হয়। একটি মোটরসাইকেলের সিটের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে এসব রুপার গহনা জব্দ করা হয়। তবে এসময় পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি বিজিবি সদস্যরা।
চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহ্ মোহম্মদ ইশতিয়াক জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতে রুপা চালান হচ্ছে-এমন সংবাদ পেয়ে সীমান্তের বারাদি ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েক সুবেদার আব্দুল জব্বার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দু ভাগে বিভক্ত হয়ে কামারপাড়া তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় একজন সন্দেহভাজন মোটর সাইকেল আরোহীকে কামাড়পাড়া মোড় দিয়ে দর্শনা সীমান্তের যেতে দেখলে কামাড়পাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় অবস্থানরত টহল দল তাকে গতিরোধ করে। তখন ওই মোটরসাইকেল আরোহী গাড়ি ঘুড়িয়ে বিপরীতদিকে পালানোর চেষ্টা করলে উল্টো দিকে থাকা একটি টহলদল তাকে ধাওয়া করে। পরে সে মোটরসাইকেল ফেলে মাঠের মধ্যে দৌঁড়ে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়। বিজিবি টহল দল ফেলে যাওয়া মোটর সাইকেলটি জব্দ করে। মোটরসাইকেলটি তল্লাশী করে মোটর সাইকেলের সীট কভারের নীচ থেকে খাকী কসটেপ দিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১০ টি প্যাকেট উদ্ধার করে। পরে ১০টি প্যাকেট থেকে ১০ কেজি ৭০০ গ্রাম রুপার গহনা জব্দ করা হয়। এসব জব্দকৃত রুপার গহনার মূল্য বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।
তিনি আরো জানান, পলাতক মোটরসাইকেল আরোহী কামারপাড়া গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে ছিলন মিয়ার (২৫) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসাথে আটককৃত রুপার গহনাগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারী অফিসে জমা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩রা আগস্ট ভারতে পাচারের সময় দামুড়হুদা সীমান্ত থেকে ৮০ হাজার ইউএস ডলার উদ্ধার করে বিজিবি। কিন্তু পাচারকারী পালিয়ে যায়। ১৫ই সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার বাড়াদি সীমান্ত থেকে ভারতে পাচারের সময় ৯ কেজি ৮৬০ গ্রাম ওজনের ৫৮টি সোনার বারসহ পাচারকারী জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নাস্তিপুর গ্রামের আব্দুর হাইয়ের ছেলে রকিবুল ইসলাম (৩৫) কে আটক করে চুয়াডাঙ্গাস্থ ৬ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)। একই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ শহরের রেলগেইট এলাকায় একটি প্রাইভেটকার তল্লাশী করে ৫টি স্বর্ণের বারসহ জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে কামরুল হাসান জুয়েল (৩৫) ও একই এলাকার আরিফ (৫০) কে একটি প্রাইভেটকারসহ আটক করে। ২৭ সেপ্টেম্বর জেলার জীবননগর সীমান্ত থেকে ৪টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী জীবননগরের গোয়ালপাড়া গ্রামের সখের আলীর ছেলে তাজমুল হোসেন (৩০) কে আটক করে ৫৮ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। আর গতকাল শনিবার দামুড়হুদা সীমান্ত থেকে জব্দ করা হয় ১০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের রুপার গহনা।









