শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে সন্তানেরা। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্বাধীনতার পর পরই বৃদ্ধা ইশারন নেছা তার স্বামী মজত আলীকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে নিজে কষ্ট করেই তার চার মেয়েকে বিয়ে দেন। আজ সেই মেয়েরাই তাকে রাস্তা ফেলে গেছেন।
জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে থাকতেন সৎ ছেলের কাছে। সৎ ছেলে মারা গেলে সর্বস্ব বিক্রি করে চলে যান একই ইউনিয়নের পাখরতলা গ্রামে মেয়ে আজিমার বাড়িতে। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এক মাস আগে অন্য এক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পান তিনি। এর পর থেকে চলাচল করতে পারেন না ইশারন নেছা।এমন অবস্থায় শয্যাশায়ী মাকে আজিমা রেখে আসনে সৎ ভাই জাহিরুলের বাড়িতে। জাহিরুল ও তার ছেলে সলেমান বৃদ্ধাকে এক মাস দেখাশুনা করার পর আবারও রেখে যান আজিমার বাড়ি। কয়েকদিন পর আজিমা আবার রেখে আসে জাহিরুলের বাড়ি। এভাবে চলছিল আসা নেওয়া। হঠাৎ গত বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় তাদের মাকে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে রেখে চলে যান তারা। রাত হলেও তাকে কেউ বাড়িতে নিয়ে যাননি।
পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তার মেয়ে আজিমার বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেও পরের দিন দুপুরে আজিমা আবারও তার মাকে মির্জাপুর উত্তরা বাজারের একটি দোকানের সামনে রেখে চলে যান। সেখানে বসে বসে কাঁদতে থাকেন ওই বৃদ্ধা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এরপর মির্জাপুর বাজারের মাদ্রাসার বারান্দা থেকে বৃদ্ধা ইশারন নেছাকে উদ্ধার করে মেয়ে আজিমা বেগমের বাড়িতে তুলে দেন তারা। পরে পঞ্চগড় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় ইশারন নেছার কাছে।
বৃদ্ধা ইশারন নেছা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সন্তানেরা পর করে দিয়েছে। এখন আর আমার কেউ নেই। আপনারা আমার স্বামীর ভিটায় একটা ঘর তুলে দিন। আমি সেখানেই যেন মরতে পারি।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় জানান, প্রতিটি মানবিক কাজে এগিয়ে যাওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তাই খবর পেয়ে পুলিশ বৃদ্ধা ইশারন নেছার পাশে দাঁড়িয়েছি। পুলিশের পক্ষ হতে ওই বৃদ্ধার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে।
আনন্দবাজার/রনি









