মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মৌ মাছির পরিচর্যা ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মধু চাষিরা। শত শত মৌ বাক্সের মধ্যে মৌ-মাছির বংশ বিস্তার করা হচ্ছে। বছরের এ সময়ে প্রায় ৪ মাস মৌ-মাছি লালন পালনের পর শীত মৌসুমে এসব মৌ-মাছিকে মধু আহরণের জন্য উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে ৮ থেকে ১০টি মৌ-মাছির সংরক্ষণাগার গড়ে উঠেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বিবন্দী, টুনিয়ামান্দ্রা, সুরুদীয়া, তন্তর, বাড়ৈগাঁও, সাতগাঁওসহ বেশ কয়েক স্থানে রাস্তার পাশে উঁচু জমি ও বাগান বাড়িতে মৌ-মাছির শত শত কাঠের বাক্স পাতা হয়েছে। গাছের ছাঁয়া তলে শীতল জায়গায় অসংখ্য বাক্স সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে। রানী মাছিরা বাক্সে বংশ বিস্তার করছে। লক্ষ্য করা গেছে, মৌ-মাছির লালন পালন ও পরিচর্যায় অভিজ্ঞ মধু চাষিরা কাজ করছেন। আগামী অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের দিকে মধু আহরণের জন্য প্রস্তুত এসব মৌ-মাছির দল নিয়ে বিভিন্ন চরাঞ্চলের আগাম ধনিয়া, সরিষা, বরই, কালজিরা ফুলের খাঁটি মধু সংগ্রহ করতে ছুঁটবেন চাষিরা। উপজেলার আটপাড়া এলাকায় ইসহাক আলী নামে এক মধু চাষি বলেন, সাতক্ষীরা থেকে তারা এ অঞ্চলে এসেছেন। এখান থেকে মৌ-মাছির বংশ বিস্তারের পর শীতের আগেই মৌ-বাক্স নিয়ে সাতক্ষীরায় যাবেন মধু উৎপাদনে।
মো. মাসুম বিল্লাল বলেন, তার সংরক্ষণে রয়েছে অস্ট্রোলিয়ান মেলীফেরা জাতের মৌ-মাছি। এসব বাক্সের মধ্যে মৌ-মাছিরা বংশ বিস্তার করছে। মৌ-মাছির দল ভারি করার জন্যই এখানে আসছেন তিনি। বর্ষার মৌসুমে এ অঞ্চলে বিলে/চকে প্রচুর ধইনছা থাকায় মৌ মাছি লালন পালন করতে সুবিধা হচ্ছে। কার্তিক মাসেই খাঁটি মধু সংগ্রহের জন্য এসব যোদ্ধা মৌ-মাছি নিয়ে মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নাটোর, পাবনা ও সুন্দরবন এলাকা ঘুরে বেড়াবেন। এ পন্থায় প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ টন মধু সংগ্রহ করে থাকেন। তালিকাভুক্ত মধু চাষি হলেও সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহযোগীতা আসে না। দেশে বছরের এ সময়ে মধু উৎপাদন বন্ধ থাকে। মৌ-মাছি লালন পালন ও পরিচর্যায় কাজে শুধু ব্যায় করে থাকেন।
জানা যায়, প্রতিটি বাক্সে সাধারণ মৌ-মাছির দল রানীর কোষ দেয়। এসব কোষ থেকে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে রানীদের জন্ম হলেও প্রতি বাক্সে মাত্র একটি করে রানী বেঁচে থাকে। একটি রানী দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার ডিম দিতে সক্ষম। রানী মৌ-মাছি বেঁচে থাকতে পারে প্রায় আড়াই বছর। বাক্সের মধ্যে এসব মৌ মাছির দল বংশ বিস্তারে আলাদা আলাদাভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে। মৌ-মাছি সংরক্ষণ ও লালন পালনের জন্য প্রতি বাক্সে আহারের জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে দুই চিনির রস/শরবত দেওয়া হয়। ১শ’ মৌ-বাক্স হিসাব অনুসারে আহারের জন্য প্রতি ৭ দিনে ৫০ কেজির ৪ বস্তা চিনির প্রয়োজন হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় একটি বাক্সে প্রায় দুই লাখ মৌ-মাছির সদস্য প্রস্তুত করে তোলা হবে। মধু প্রক্রিয়াজাত করণ কোম্পানীর কাছে চাষিদের উৎপাদিত প্রতিকেজি মধু বিক্রি করা হয় ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা দরে। খোলা বাজারে বিভিন্ন মধু কোম্পানীর প্যাকেটজাত প্রতিকেজী মধু বিক্রি হয় খুচরা ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা দরে।









