বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে মৎস আহরণে নিয়োজিত সামুদ্রিক নৌযান প্রায় ৬৮ হাজার। সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ অনুযায়ী এসব নৌযানের লাইসেন্স থাকা আবশ্যক হওয়া সত্ত্বেও বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত ৯০ শতাংশ সমুদ্রগামী ট্রলারেরই লাইসেন্স নেই। এতে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, আরেকদিকে যান্ত্রিক নৌযানগুলো থাকছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকছে।
মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্র অঞ্চলে সর্বশেষ জরিপ করা হয়েছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। সে জরিপে দেখা যায় বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস আহরণে নিয়োজিত আছে ৬৭ হাজার ৬৬৯টি সামুদ্রিক নৌযান। তবে জরিপটি সাড়ে চার বছর আগের হওয়ায় বর্তমানে নৌযানের সংখ্যাটি আরও বেড়ছে বলে ধারণা অধিদপ্তরের। তবে এসব ট্রলারের মধ্যে অনুমতিপ্রাপ্ত বাণিজ্যিক ট্রলার রয়েছে মাত্র ২৫৫টি। এর মধ্যে ২০০ ট্রলার বর্তমানে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত রয়েছে।
অপরদিকে ৬৮ হাজার ট্রলারের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র সাত হাজারের কাছাকাছি যান্ত্রিক মৎস্য নৌযানের। বাকি ৯০ শতাংশই চলছে অবৈধভাবে।
এ বিষয়ে সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. লতিফুর রহমান জানান, বর্তমানে প্রায় ৬৮ হাজার যান্ত্রিক মৎস্য নৌযান বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য আহরণে নিয়োজিত রয়েছে। এসব ট্রলারের মধ্যে প্রায় সাত হাজারের কাছাকাছির লাইসেন্স থাকলেও বাকিগুলো মৎস আহরণ করছে লাইসেন্স ছাড়াই। অনেক প্রতিকূলতার কারণে ট্রলারগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। কর্মকর্তারা অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে ১৫ মেট্রিক গ্রস টনেজ ও ৩০ ইঞ্জিন ক্ষমতা (অশ্বশক্তি) পর্যন্ত মৎস্য নৌযানের রেজিস্ট্রেশন ও সার্টিফিকেট অব ইন্সপেকশন জারিসহ ফিশিং লাইসেন্স প্রদান সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের কাছে ন্যস্ত করার মতামত দেন।
আনন্দবাজার/তা.তা









