কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুর্গাপূজার আমেজকে ঘিরে বিভিন্ন বিপণি বিতানগুলোতে কেনাকাটা একদম সীমিত। বেচাকেনা কম হওয়ায় চিন্তিত বিভিন্ন বিপণি বিতানের মালিকেরা। পূজার আমেজ শুরু হতে মাত্র অল্প সময় বাকি থাকলেও সে ভাবে দেখা মিলছেনা ক্রেতাদের।
সরেজমিনে উলিপুরের বিভিন্ন বিপণি বিতান ঘুরে দেখা যায়, দোকানের মালিক ও কর্মচারি বসে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়। দু’একজন করে ক্রেতা আসছেন। কেউ পোশাক কিনছেন। আবার কেউ দর কষাকষি করে চলে যাচ্ছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বেচাকেনা বেশি হওয়ার কথা থাকলেও আশানুরূপ হচ্ছে না। তবে কিছু কিছু বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। তারা পরিবারের চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন ধরনের ধরনের পোশাক পরিচ্ছেদ কেনাকাটা করছেন। সকল ধরনের কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সে কারণেই অতিরিক্ত চাহিদাকে থামিয়ে রাখতে হচ্ছে ক্রেতাদের। প্রয়োজনের বাহিরে কোনো পোশাক কিনছেন না ক্রেতারা।
উপজেলার বাকরের হাট থেকে ক্রয় করতে আসা শ্যামলি রানী বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবে আমরা প্রতিবছর কেনাকাটা করে থাকি। চলতি বছর সকল ধরনের পোশাকের যে দামের ঊর্ধ্বগতি তাতে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের চাহিদা থাকলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম কেনাকাটা করতে হয়েছে।
তবে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে বিভিন্ন কসমেটিকস ও শাঁখা সিঁদুরের দোকানগুলোতে। পূজা শুরুর আগ মূহুর্তে চলছে প্রতিমা সাজানোর শেষ প্রস্ততি। পূজা উপলক্ষে কাপড়ের মার্কেটগুলোতে নারীদের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন রংয়ের থ্রি-পিস, জামদানি শাড়ি, কাতান শাড়ি, লেহেঙ্গা ও তাঁতের শাড়ি। তেমন দেখা মিলছেনা ক্রেতাদের।
ছেলেদের জন্য রয়েছে বাহারি ডিজাইনের ধুতি, শর্ট পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট। এছাড়াও বাচ্চাদের জন্য রয়েছে বাহারি পোশাক। মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, সীমিত কেনাকাটার মধ্যে কেউ শাড়ি কিনছে, কেউ পাঞ্জাবি, কেউ আবার কিনছে জুতা। প্রায় সবার হাতেই ছিল শপিং ব্যাগ। নারীরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন চুড়ি, গলার হারসহ নানা রকম অলঙ্কার। পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের জুয়েলারি, সিঁদুর, চুড়িসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন দোকানিরা।
উপজেলার বিপণি বিতানের মধ্যে কে আর ট্রেডার্স বস্ত্রালয় এর মালিক অকুল কৃষ্ণ সাহা ও গন্ধেশ্বরী ববস্ত্রালয় এর মালিক নব সাহা বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবে আমরা প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ বেচাকেনা করে থাকি। গত বছর করোনা থাকলেও অনেক বেচাকেনা করেছি। কিন্ত এবার করোনা না থাকলেও সেই তুলনায় অনেক কম বিক্রি হচ্ছে। গতবছর এ উৎসবে দিনে প্রায় ১ লাখ থেকে দেড়লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতাম। এবার দিনে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি হয় বলে জানান তারা। তারা বলেন অনেক আশা ছিল এ বছর অনেক বেচাকেনা করব কিন্তু তা করতে পারলাম না।
উলিপুর মার্কেটের মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজুল হক জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবে প্রতিবছর আশানুরূপ বেচাকেনা হয়। এবারে তা ভিন্ন। তেমন নেই বেশি ক্রেতা সীমিত বেচাকেনা। সীমিত বেচাকেনার হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সকল জিনিস পত্রের দাম ঊর্ধমুখি হওয়ায় ক্রেতারা চাহিদার তুলনায় অনেক কম কেনাকাটা করছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। এখন আর আগের মতো বিক্রি হচ্ছেনা।









