গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বরিশাল ইউনিয়নের ভবানীপুরে নিজ বাড়িতে শপিংব্যাগ তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছে নারী উদ্যোক্তা সাধিনা। এ ব্যাগ তৈরি কাজে যুক্ত হয়েছে এলাকার দরিদ্র প্রায় ৩শ’ নারী। পরিবারে কাজের ফাঁকে চুক্তিতে ব্যাগ তৈরি করে বাড়তি আয় করে সাবলম্বী হচ্ছেন দরিদ্র নারীরা। স্বামীর পাশপাশি পারিবারের দারিদ্র বিমোচনে অবদান রাখা এসব নারীরা এখন উন্নত জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।
সাধিনার হাত ধরে শপিংব্যাগ তৈরীর কারখানায় কাজ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে অনেক নারীর। গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় এসব নারী বাড়ির পাশের কারখানায় কাজ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলছেন তারা।
উপজেলার বরিশাল, ভবানীপুর, মহাদিপুর ও গারানাটা প্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে চলছে শপিংব্যাগ তৈরির কাজ। নারী উদ্যোক্তা সাধিনা বেগমের হাতধরে এ ব্যাগ তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছেন এলাকার দরিদ্র নারীরা। কেউ কেউ সাধিনার কারখানায় কাজ করলেও বেশির ভাগ নারী তার নিজ বাড়িতে শেলাইয়ের কাজ করেন। পারিবারিক কাজের ফাঁকে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ডর্জনে শেলাই করে প্রতিদিন ২শ‘ থেকে ৩শ’ টাকা আয় করছেন।
কাকলি বেগম (৫৫)। স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। তিন ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। বড় ছেলের দিনমজুর দিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে চলে সংসার। তার ঘরে আছে অভাব অনটন। নিজের হাতখরচ জোহাতে দলবদ্ধ হয়ে তিনি কাজ করেন শপিংব্যাগ কারখানায় কাজ করেন। তার যেমন অভাব অনটন মিটিয়ে গেছে। তেমনি নিজের অনেক প্রয়োজনীয় খরচ করতে পারেন। এখন কাজ করে অনেক নারী সংসারের অভাব ঘুচিয়েছেন তারা তেমনি ছেলে- মেয়েদের লেখাপড়ার খরচও যোগান দিতে পারেন তিনি।
পলাশবাড়ী উপজেলার হোসনেরা বেগম বলেন, আয়বর্ধক মূলক কাজে যুক্ত হওয়া। এক সময় অভাব অনটনের সংসার চল্লেও এখন তারা অনেকটায় সাবলম্বী। দশ থেকে পঞ্চাশ টাকার জন্য স্বামীর কাছে তাদের আর হাত পাত্তে হয়না, ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার খরচ থেকে শুরু করে সাংসারেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন তারা। পারিবারের দারিদ্র বিমোচনে অবদান রাখা এসব নারীরা এখন স্বপ্ন দেখছেন উন্নত জীবন গড়ার।
নারী উদ্যোক্তা সাধিনা বেগম বলেন, ২০১৮ সালে পলাশবাড়ী বিআরডিবি গাইবান্ধা সমন্বিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের আওতায় ব্যাগ সেলাই ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষে শপিংব্যাগ তৈরির কারখানা গড়ে তুলি। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে এলাকার অন্য নারীদের সম্পৃক্ত করেছি। উৎপাদিত শপিংব্যাগ বিভিন্ন হাট বাজারে বাজারজাত করছেন। ঘরে বসে নিজের এবং এলাকার দরিদ্র নারীদের স্বচ্ছলতা দেখে খুশি সাধিনা।
গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, গাইবান্ধা সমন্বিত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় পণ্যভিত্তিক পল্লী গড়ার লক্ষ্যে গ্রুপ করে স্বল্প আয়ের পরিবারের ২শ’ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং ১১৩ জনকে সেলাই মেশিন ক্রয়ে ঋণ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে শপিংব্যাগ তৈরীর কাজ করে আয় করছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি এ ধরণের কর্মমুখী নানা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হবে। স্বল্পআয়ের পরিবারের নারীদের এধরনের প্রশিক্ষণ দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে। আগামীতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নতুন নতুন পল্লী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।









