গাজীপুুরের শ্রীপুরে লকডাউনের কারণে অন্যান্য অঞ্চলের মতোই বন্দি মুলাইদ গ্রামের মানুষ। সকালে ঘুম থেকেই উঠেই স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যক্তিগত সুরক্ষার পোশাক পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কেউ অসুস্থ আছেন না কি খোজ খবর নিচ্ছেন। অথবা কেউ অন্য কোনো জেলা বা বিদেশ থেকে এসেছেন কি-না এই বিষয়গুলোর দিকেও নজর রাখছেন। এমনকি কারও সর্দি, জ্বর বা ঠান্ডা আছে কি-না প্রতিটি বাড়ির দরজায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন। বাড়ির লোকজনও ভেতর থেকে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। আর এভাবেই গাজীপুরের শ্রীপুরে করোনার সংক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এ সময়ে যদি কারো শরীরে করোনা উপসর্গসহ পাওয়া যায় তাহলে দ্রুত যোগাযোগ করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সাথে সাথে বাড়িতে হাজির হচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন আইইডিসিআরে।
উপজেলাব্যাপী এই বিশাল কর্মযজ্ঞে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাসের সমন্বয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক এএসএম ফাতেহ্ আকরাম। এছাড়াও আইইডিসিআর থেকে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহকারী ওই রোগীর হোম কোয়ারেন্টাইনেও বিশেষ নজরদারিও করছেন তারা।
বিশেষ করে দেশে করোনা ‘সংক্রমণের পর উপজেলার কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ডাক্তার ও চিকিৎসক সংকটে সাধারণ চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়ার পর সরকারি চিকিৎসকদের মানবিক দায়িত্ব বেড়ে গেছে। উপজেলার সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসা কেন্দ্র সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তরুণ চিকিৎসক এএসএম ফাতেহ্ আকরাম এক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে। তিনি জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের আশা ভরসার কেন্দ্র হয়ে ওঠে সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো। আমরা মানুষের আশাকে ভেঙে দিতে পারি না। প্রথম প্রথম ভয় হলেও আমরা চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত সকলেই এক সাথে বসে শপথ নেই, যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন আমরা কেউ পিছপা হবো না। মৃত্যুকে হাতে নিয়েই চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
আনন্দবাজার/এফআইবি








