- বন্ধ আমিন জুটমিল
- আন্দোলন ছাড়া বিকল্প পথ নেই
গত ৯ বছরে দফায় দফায় আন্দোলনসহ নানা দৌঁড়ঝাপ করেও নিজেদের বকেয়া পাওনা মিলেনি বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের আমিন জুটমিলের শ্রমিক কর্মচারীরা। ২০২০ সালে লোকসানের কারণে আমিন জুট মিলস বন্ধ করে দিলেও এখনো কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করেনি সরকার। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধের তিন মাসের মধ্যেই সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কথা বলা হলেও গেল ৯ বছরে কিছু শ্রমিকের অর্থ পরিশোধ করা ছাড়া ২০১৩ এর জুলাই থেকে ২০২০ পর্যন্ত অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের পি এফ, গ্রেচ্যুয়িটিসহ কোনো প্রকার পাওনা অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেয়নি সরকার। তাই এবার নিজেদের পাওনা আদায়ে শ্রমিকদের সাথে রাজপথে নেমেছেন অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারিরা।
গতকাল বুধবার সকালে নগরীর আমিন জুট মিলস গেইটে আয়োজিত সমাবেশ থেকে অবিলম্বে নিজেদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান শ্রমিক কর্মচারি নেতারা। এ সময় শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে লাল পতাকা মিছিল করেন।
এসময় তারা সরকারের কাছে দ্রুত তাদের পাওনা পরিশোধের জন্য জোর দাবি জানান। জীবনের শেষ বয়সে এসে যেখানে এ টাকা পেয়ে আনন্দে সময় কাটানোর কথা এসব কর্মকর্তাদের তারা এখন অর্থাভাবে করাতে পারছেন না নিজের ও পরিবারের চিকিৎসাও। এরই মধ্যে পাওনা না পেয়ে মারা গেছেন প্রায় ৩শ’ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাদের নমিনিও।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৩ সাল থেকে মিল বন্ধ হওয়া পর্যন্ত যারা চাকরি থেকে অবসরে গেছেন তাদের বকেয়া এখনও দেওয়া হয়নি। এসব মানুষগুলোর পরিবার কিভাবে চলছে কেউ খোঁজ রাখেনি। তারা অনেকে আছেন আর্থিক কষ্টে। করোনা মহামারিতে অবসরে যাওয়া অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের পরিবারও আছে আর্থিক কষ্টে। শ্রমিক কর্মচারীরা বলেন, পাওনা পরিশোধে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এমনকি এ বিষয়টি নিয়ে মাথাব্যথাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন করা ছাড়া আমাদের আর পথ নেই। এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে আমিন জুট মিলসহ ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় কিছু শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হলেও ২০১৩ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।









