জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এরইমধ্যে ভাড়াও বেড়েছে লঞ্চের। সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়াই ঢাকা-রাঙ্গাবালী নৌরুটের লঞ্চে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাÑ তারা ভাড়া বাড়াননি। আগে কম নিয়েছেন। এখন তেলের দাম বাড়ায় নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন। তাহলে আগে কেন এই ভাড়া নেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্ন যাত্রীদের।
লঞ্চযাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালাতি তেলের দাম বাড়ার পর সম্প্রতি লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ডেকে ভাড়া বাড়িয়েছে ২০০। ডাবল কেবিনে বাড়িয়েছে ৫০০-৬০০। সিঙ্গেল কেবিনে বাড়িয়েছে ২০০ টাকা । লঞ্চযাত্রীদের ভাষ্য, রাঙ্গাবালী নৌপথ নির্ভর জনপদ। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ লঞ্চযোগে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ। তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়লেও যাতায়াত করতে হবে। এই সুযোগেই লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেখুশি মত ভাড়া বাড়িয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছেন সরকার। জ্বালানি তেলের এ দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া শতভাগ বাড়িয়ে দিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি। তবে এখনও এবিষয়ে কোন সিদ্বান্ত হয়নি। এরআগেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছরের ৭ নম্বর লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে সব লঞ্চের ৩৫ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
প্রতিদিন ঢাকা থেকে রাঙ্গাবালীর উদ্দেশ্যে একটি লঞ্চ আসে এবং রাঙ্গাবালী থেকে একটি লঞ্চ ঢাকা যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর অগ্রীম এক দফায় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাড়িয়েছে। লঞ্চ মালিক সমিতির প্রস্তাবে সরকার যদি ভাড়া বাড়ায়, আবারও দ্বিতীয় দফায় তারা ভাড়া বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।
লঞ্চ যাত্রীরা জানান, আগে ডেকের ভাড়া ছিল ৪০০-৪৫০। এখন ৬০০-৬৫০ টাকা। সিঙ্গেল কেবিন ছিল ১৩০০-১৪০০। এখন নিচ্ছে ১৫০০। আর ডাবল কেবিন ছিল ২৪০০-৫০০। যা বেড়ে এখন ৩০০০। এক লঞ্চের ডাবল কেবিনের যাত্রী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার পর হঠাৎ করে লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়েছে। এখনওতো সরকারি কোন নির্দেশনা আসেনি। তাহলে আগেভাগেই কেন ভাড়া বাড়ানো হল?।’ লঞ্চের আরেক যাত্রী শুভ্রত সিকদার বলেন, ‘এখন ভাড়া বাড়িয়েছে। সরকার তাদের দাবি মেনে নিলে আবার ভাড়া বাড়াবে। যাত্রীদেরতো কিছু করার নাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-রাঙ্গাবালী রুটে চলাচল করা যাত্রীবাহী লঞ্চ জাহিদ-৮ এর ইনচার্জ শাহ আলম জানান, ‘সিঙ্গেল ১৫০০, ডাবল ৩০০০। ডেকে ৬০০।’ তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি ‘সাহেব’ ফোন দিয়েছেন-এ কথা বলে ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম ভূইয়া (আশিক) বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিতে পারবে না। যদি বেশি নেয়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









