- দুর্ভোগে ৮ গ্রামের মানুষ
দুই বছর ধরে ব্রিজ নির্মাণের ৩০ শতাংশ শেষ না হলেও অনির্দিষ্ট কারণে এক বছর যাবত নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে মেহেরপুর মুজিবনগরের টেংরামারী-কোমরপুর ভৈরব পাড়ের দুই পাড়ের আট গ্রামের মানুষ।
গার্ডার টেস্টিং এর কথা বলে বন্ধ থাকা নির্মাণ কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তা জানেন না কেউ। এদিকে যতটুকু নির্মাণ হয়েছে তাও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। রড পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রী চুরি হচ্ছে হর হামেসাই। পাহারাতেও দেখা যায় না কাউকে। ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শুরু হলে এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল। তবে দির্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ক্ষোভ জন্মেছে জনমনে। ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাবাসী। একবাঁশের সাকোঁতে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে জনগন। তবে এলজিইডি বলছে দ্রুতই শুরু হবে নির্মাণ কাজ।
মেহেরপুর এলজিইডি জানায়, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৮১ মিটার পিএসসি গাডার ডিজাইনে ভৈরব নদের উপর এ ব্রিজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেন। ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার ১ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের ইউনুস এন্ড ব্রার্দাস ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। তবে দুই বছর পার হয়ে গেলেও ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়নি এখনো। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
টেংরামরী গ্রামের মিন্টু মিয়া বলেন, বাঁশের সাঁকো ভাঙার পর থেকে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কাজ বন্ধ না করলে এতদিনে তা শেষ হতো। বাঁশের সাঁকোটিও ভাঙাচুরা। সেতুর কাজ আবার কবে শুরু ও শেষ হবে, সেটিও আমরা জানি না। কোমরপুর গ্রামের আশকার আলী একই কথা বলেন। এছাড়াও তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে তাঁরা ওপারে গিয়ে অটোরিকশা ও ইজিবাইকে যাতায়াত করে। এখন বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে যান চলাচল করা যায় না। এ কারণে বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন পণ্য পরিবহনের জন্য উপজেলা সদর থেকে অনেক ঘুরে আসতে হয়। দুটি ইউনিয়নে মানুষজনের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। এর বাইরে আরও দুটি ইউনিয়নের লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। আমরা কৃষি কাজ করি। ওপার থেকে ফসল পারাপারে অনেক কষ্ট হয়। সেতুর কাজ দ্রুত শেষ না হলে মানুষের ভোগান্তি বেড়েই যাবে।
মেহেরপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, ঠিকাদারের টেস্ট সংক্রান্ত জটিলতায় এ সমস্যা হয়েছে। টেস্টিং রির্পোট আমরা হতে পেয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যে ব্রিজের কাজ শুরু হবে। তারপরও কাজ শুরু হওয়ার পর বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে কিছু সময়।









