সরকারকে এফবিসিসিআইয়ের চিঠি
দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতির কারণে বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়বে। কৃষি, শিল্প, সেবা ও রপ্তানি খাতসহ সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান ধারা বিঘ্নিত হবে, রূপকল্প ২০৪১ ও এসডিজি ২০৩০ অর্জন এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন হুমকির মুখে পড়বে।
জনজীবনের ওপর অর্থনৈতিক এসব প্রভাব পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্লেষণ না করে গ্যাস ও বিদ্যুতের ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনা করা সমীচীন হবে না বলে জানাচ্ছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নেতারা।
এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেছেন, করোনা মহামারি ও ইউক্রেন সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, উৎপাদন উপকরণসহ সব খাতে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি, মাত্রাতিরিক্ত সার্বিক পরিবহন ব্যয় এবং মুদ্রা বিনিময় হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেক বেশি বেড়ে চলেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিখাতে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি মনে করেন এর নেতিবাচক প্রভাবে শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে চলতি হিসাবে ঘাটতি হওয়ায় বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ছে। সঞ্চয় কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যাংক খাতের অর্থপ্রবাহে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতির কারণে বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।
চলমান এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসকে সম্প্রতি এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। চিঠিতে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন।
চিঠিতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে নিয়মিত কূপ খনন প্রকল্প হাতে নিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের অপচয় ও অবৈধ সংযোগসহ যাবতীয় দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করার অনুরোধসহ গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, দেশের গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৭৮ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে আসে এবং বাকিটা আমদানি হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানি পর্যায়ে ভর্তুকি দিয়ে নতুন করে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়।









