ইউরিয়াসহ সব ধরনের সার সরকার নির্ধারিত দামে ডিলারদের থেকে কিনতে পারছেন না কৃষক। গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা। বেশি দামে সার বিক্রি করায় বছরখানেক আগে অভিযান চালায় ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন। এরপর থেকে ডিলারদের ইচ্ছামতো দরে সার বেচাকেনা চলছে। এ কারণে চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন কৃষক।
গত রোববার বিকেলে মোবাইলের গোপন ক্যামেরা অন করে সার কিনতে ঘাটাইলের গারোবাজারে রনি ট্রেডার্সে পাঠানো হয় এক কৃষককে। সার নিয়ে ডিলার এবং কৃষকের কথাবার্তায় যা উঠে আসে তা হলো- প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ২৬০ টাকা, পটাশ ১ হাজার ৪৫০. দেশে উৎপাদিত টিএসপি (টিএসপি কমপ্লেক্স) ১ হাজার ৮০০ এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা টিএসপি ১ হাজার ৩০০ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ১০০, পটাশ ৭৫০ এবং টিএসপি ১ হাজার ১০০ টাকা। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করছেন না ডিলাররা।
রনি ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল বাছেদ খান বলেন, আমি বিসিআইসির ডিলার না। ডিলার, রুকিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক পাকুটিয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম লিটন। তাঁর প্রতিনিধি আমি। তবে বেশি দামে সার বিক্রির বিষয়ে মুখ খুলতে তিনি।
কৃষক সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, সারের বাজারে কোনো তদারকি নেই। পাহাড়ি মাটিতে কলা ও আনারস চাষ করতে অনেক সার প্রয়োগ করতে হয়। সরকারিভাবে দাম না বাড়লেও দুই সপ্তাহ ধরে ইউরিয়া বাদে সব ধরনের সার দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক কৃষক কলা, আনারস ও অন্য ফসল চাষ বন্ধ করে দিচ্ছেন।
সাগরদিঘি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার একজন বড় কৃষক। জানান, বছরে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো সার লাগে। সরকার টিএসপি ও পটাশ সারের নাম না বাড়ালেও দ্বিগুণ দাম নিচ্ছেন ডিলাররা। ৭০০ টাকার বস্তা পটাশ সার ১ হাজার টাকা এবং দেশে উৎপাদিত টিএসপি সার দ্বিগুণ দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।
বেশি দামে সার বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন সাগরদিঘি বাজারের বিসিআইসি সারের ডিলার আশিশ সাহা। তিনি বলেন, সাগরদিঘি এলাকায় কলা ও আনারস চাষি বেশি। তাই সারের ব্যাপক চাহিদা। অথচ সরকার থেকে মাত্র ৩০-৩৫ বস্তা সার পান ডিলাররা। তাঁর দাবি, যেসব জেলায় সারের চাহিদা কম, সেসব জেলা থেকে বেশি দামে সার কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি সার কিনে আনেন ভৈরব ও নরসিংদী থেকে।
কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহানের ভাষ্য, ঘাটাইলে সারের সংকট নেই। প্রতিনিয়ত সারের বাজার মনিটরিং করছেন তারা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ যদি বেশি দামে সার বিক্রি করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘাটাইলের ইউএনও মুনিয়া চৌধুরী বলেন,খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









