জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে নিজের চাষ করা ফসলের মাঠে ফুটিয়ে তুলেছেন ভালোবাসার চিহ্ন, সেটাও তাঁর ফলানো ফসলেই। তার নিজস্ব জমিতে শস্যচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়। পাশাপাশি জাতীয় ফুল শাপলা, জাতীয় পাখি দোয়েল, জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার এবং পদ্মা সেতুসহ বেশ কিছু শিল্পকর্ম।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের শেষ সীমানা লগোয়া সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটার দূরে পাশেই ‘পাড়া খালবলা’ গ্রাম। এ গ্রামে বঙ্গবন্ধুর ‘প্রেমের কৃষক’ নামে পরিচিত ৬৭ বছর বয়সী কৃষক আবদুল কাদির বসবাস করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফসলের মাঠে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তিনি পেশায় একজন কৃষক। গ্রামের আর দশজন কৃষিজীবীর মতোই জীবন তাঁর। তবে এখন তিনি এলাকায় পরিচিত বঙ্গবন্ধুর ‘প্রেমের কৃষক’ নামে।
মূলত বঙ্গবন্ধু প্রেমিক কৃষক আবদুল কাদিরের বাড়ি তার নিজ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৪ কিমি দূরে আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়া খালবালা গ্রামে। তবে নিজের চেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের জমিতে শস্যচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে যাচ্ছেন। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালেও তার জমিতে এমন শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরি করেছিলেন। আর এতে ব্যবহার করেন লাল শাক, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাড়া খালবলা বন্ধুমহল ডিজিটাল ক্লাব নামে একটি স্থানীয় সংগঠনের সহযোগিতায় নিজের ৩৩ শতক জমিতে সরিষাগাছ ও লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি’র মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, পদ্মাসেতু, মুক্তিযুদ্ধ, স্মৃতিসৌধর প্রতিচ্ছবি। চিত্রশিল্পি হাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় কৃষক আব্দুল কাদির এঁকেছেন এসব শিল্পকর্ম। দিন যত যাচ্ছে, সবজির চারা বড় হওয়ার সঙ্গে চিত্রটিও ফুটে উঠছে।
এলাকাবাসি জানান, গত বছরও একই জমিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এঁকে আলোচনায় আসেন কৃষক কাদির। এরই ধারাবাহিকতায় বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফের এমন অনন্য শিল্পের উদ্যোগ নিয়েছেন ওই কৃষক। গাছ যত বড় হচ্ছে, ছবিগুলোর নান্দনিকতা-সৌন্দর্য আরও বাড়ছে।
কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমি যা করেছি তা বঙ্গবন্ধুকে এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ভালোবেসেই করেছি। আমি একজন কৃষক মানুষ, তাই আমি আমার ভালোবাসাটা ফসলের মাঠে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আর আমার এ শিল্পটা দেখার জন্য যখন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে তখন আমার খুবই ভালো লাগে।
এবিষয়ে পাড়া খালবলা বন্ধুমহল ডিজিটাল ক্লাবের’ সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম সোহেল বলেন, দেশ এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি কৃষক আব্দুল কাদিরের ভালোবাসা দেখে আমরা এ কাজে সহযোগিতা করেছি। এমন একটি কাজে তাঁকে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা গর্বিত।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, কৃষক আব্দুল কাদির প্রতিবছরই ভিন্ন কিছু করে থাকেন। এগুলো তার দেশের প্রতি, বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার অকৃত্রিম বহিঃপ্রকাশ।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাফিজা জেসমিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কৃষকের এমন একটি উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি এই বিষয়টি গতকালই অবগত হয়েছি। অচিরেই তা পরিদর্শনে যাব। উপজেলা প্রশাসন ওই কৃষকের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।









