কক্সবাজার জেলায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ভয়াবহ ভাবে বিস্তারলাভ করেছে। জেলায় প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা, লম্বা হচ্ছে করোনায় মৃত্যুর মিছিল। যে কারণে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কক্সবাজারকে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) পর্যন্ত জেলায় ৮৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে মোট ১৭ জন। সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত ও মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার পৌর শহরে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন ড. মাহবুব রহমান।
এদিকে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার কয়েকটি এলাকাকে রেড ও ইয়েলো জোনে ভাগ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহৃত করা হয়েছে।এর বাইরে ১ নম্বর ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘ইয়োলো জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অতিমাত্রায় করোনা সংক্রমণের কারণে ‘রেড জোন’ এলাকা গুলো সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
রেড জোন এলাকায় আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনে লকডাউনের সময় আরো বাড়তে পারে। রেড জোন ঘোষিত এলাকা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবেন না, আবার প্রবেশ করতে পারবেন না কেউ। শনিবার ৬ জুন থেকে তা কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত এলাকাগুলো সম্পুর্ণভাবে অবরুদ্ধ করা হবে। লকডাউন চলাকালীন সময় এসব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষকে সরকারিভাবে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা কমাতে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানান, কক্সবাজারের সচেতন নাগরিকদের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।যেটি শনিবার থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজনে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এবার বল প্রয়োগ করা হবে।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস/জে ইউ









