- দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রা দুর্বিষহ
- গ্রামীণ বাজারেও তেলের সংকট
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। বিশেষ করে বিপাকে রয়েছেন গ্রামের সাধারণ ক্রেতারা। অধিকাংশ দ্রব্যসামগ্রী এখন তাদের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। নিম্নআয়ের মানুষের সংসারে এখন শুধুই হতাশা। স্বল্প আয়ে তাদের সংসার ঠিকমতো চলে না। এরই মধ্যে হু হু করে বেড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম। গ্রামের সাধারণ মানুষের ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জুটে না এখন পুষ্টিকর খাবার।
সারাদেশের ন্যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলার কর্মধা, পৃথীমপাশা, হাজিপুর ও ভূকশিমইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অতি-দরিদ্র বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। পাশাপাশি স্বল্প আয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ বেশ কষ্টসাধ্য। কর্মধা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষ খাসিয়া পুঞ্জিতে শ্রমিকের কাজ করে দৈনিক ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা মজুরি পান। কেউ কেউ কাঠ মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রী, রং মিস্ত্রির কাজ করেন। আবার কেউ মৌসুমি পেশা পরিবর্তন করে মাটি কাটার কাজ করেন।
খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন কর্মধা ইউনিয়নের টাট্রিউলি গ্রামের মো. মছদ্দর। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবার নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হয়। আগের চাইতে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় পরিবারের ভরণ-পোষণ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাটেরা ইউনিয়নের সালেহ আহমদ বলেন, আগের মতো মাছ-মাংস ক্রয় করতে পারি না। আয় কমেছে। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায় অনেক দিন ধরে মাছ-মাংস চোখে দেখি না। ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় দৈনিক মজুরির এসব শ্রমিক দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।
গ্রামের অনেক দোকানে আগে কোম্পানির লোকেরা তেল বিক্রি করতো। বর্তমানে কোম্পানির লোকেরা তেল বিক্রি করতে আসে না। হায়দরঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া জানান, বর্তমানে কোম্পানির লোকেরা তেল দিতে পারছে না। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা শ্রীমঙ্গল থেকে নিয়ে এসে লাভ করতে পারবো না। ব্যবসায়ী হারুন মিয়া জানান, যে সকল পণ্যের দাম বেড়েছে সেগুলো আগের মতো ক্রেতারা বেশি করে কিনে না। সবাই খুচরা নিতে চায়। খুচরা তেল, চিনি, আটা বিক্রি এখন বেড়েছে। গ্রামের সাধারণ ক্রেতারা ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম হারে খোলা তেল বেশিরভাগ ক্রয় করছে।
সরজমিনে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি ও অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্যে হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। চিনি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। কিছুদিন আগেও চিনি বিক্রি হয়েছিল কেজি ৭৫ টাকা দরে, তেল লিটার প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা। কিছুদিন আগেও তেল বিক্রি হয়েছিল লিটার ৬০ টাকা দরে। এছাড়া প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাঁজর প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং চাল কুমড়ার পিস ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।









