গত কয়েকমাস যাবৎ সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের কাজ চলেছে। তবে সম্পূর্ন কাজ শেষ না হলেও এসব সড়ক দিয়েই যানচলাচল করছে। এছাড়াও এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকবে অন্যবারের তুলনায় বেশি। সে কারনে সাভারের মহাসড়কগুলোতে এবার তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন গাড়ি চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের দাবি কিছুটা যানজট থাকলে মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে। যানজট এড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।
জানা যায়, গত কয়েকমাস যাবৎ সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের চার লেনের কাজ চলছে। সাভার বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ধামরাই এলাকায় এখনো অধিকাংশ কাজ শেষ করা হয়নি। অন্যদিকে আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল সড়কে জিরবো, জামগড়া ও ইউনিকসহ বেশ কিছু বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত কয়েকবছর যাবৎ তেমন কোনো সংস্কার কাজ না করায় সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ সড়কে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে।
ফাহমিদা এক্সপ্রেস পরিবহনের চালক বাবুল আহম্মেদ বলেন, তিনি গত পাঁচ থেকে আট বছর যাবৎ নবীনগর টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে যাত্রীবাহি বাস চালিয়ে আসছেন। সব সময়ে ঈদের মধ্যে এ সড়কে যানজন লেগেই থাকে। কখনো কখনো চন্দ্রা থেকে এ যানজট সাভারের নবীনগর এলাকা পর্যন্ত এসে পৌছাতেও দেখা গেছে। গতবারের তুলনায় এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সবচাইতে বেশী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকাগুলোতে ধীরগতিতে যাত্রী উঠানামা করাসহ বিভিন্ন কারনে সাভারে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে তিনি জানান।
বাইপাইল এলাকার আলহামরা পরিবহনের কাউন্টার মালিক রাকিব হাসান বলেন, করোনার কারনে গত ঈদে মানুষ ঠিকমতো বাড়ি ফিরতে পারেনি। তাই এবারের ঈদে অধিকাংশ মানুষ গ্রামে গিয়ে সবার সাথে ঈদ করার জন্য ব্যকুল হয়ে রয়েছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারনে সাভারের সড়কগুলোতে যানজটে ভোগান্তি হতে পারে ঘরমুখো মানুষের বলে তিনি জানান।
শতাব্দি পরিবহনের মালিক সমিতির উপদেষ্টা আব্দুল মোতালেব বলেন, প্রতি ইদেই সাভারের সড়কগুলোতে যানজটে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। এবারও যানজট পোহাতে হবে ঘরমুখো যাত্রীদের। তবে সাভারের মহাসড়কগুলোতে পুলিশ যদি শক্ত ভুমিকায় থাকে তাহলে যানজট নিয়ন্ত্রনে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড ছাড়াও যাত্রী উঠানামা বন্ধসহ বাসস্ট্যান্ড এলাকাগুলোতে ধীরগতিতে যাত্রী উঠানামাও রোধ করতে হবে। তবে সাভার শিল্প এলাকা হওয়া পোশাক কারখানাগুলো ধাপে ধাপে বন্ধসহ যানজট নিয়ন্ত্রনের জন্য পুলিশের পরিকল্পিত ভুমিকাও দরকার বলে তিনি জানান।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, গত ঈদের তুলানায় এবার মানুষের চাপ একটু বেশী থাকবে। এছাড়াও ঈদে যানজট থাকাটা একটা সাধারন বিষয়। কারন এই সময়ে সব মানুষ এক সঙ্গে বাড়ি ফিরেন। সে কারনেই মানুষের চাপে যানজট হওয়াটা একটা স্বাভাবিক বিষয়। তবে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও যানজট ছাড়াই এবার মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবে বলে তিনি আশা ব্যাক্ত করেন ।
সাভার ট্রাফিক জোনের ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম বলেন, ঈদে যানজট হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যানজট নিয়ন্ত্রনের জন্য তাদের পুলিশ সদস্যরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঘরমুখো মানুষদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরতে পারবে বলে তিনি জানান।









