- টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে জানে না প্রকল্পের সভাপতি
- কর্মকর্তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ইউএনও এবং এসিল্যান্ড স্যারের কাছে জিজ্ঞাসা করেন, আমার কাছে কোনো টাকা নেই : আবুল কালাম আজাদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, শাহজাদপুর
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর মাটি ভরাট প্রকল্পের কাজ না করেই ৩৩ দশমিক ৬৭৫ মে. টন গম উত্তলোনের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতির বিরুদ্ধে। তবে, বরাদ্দকৃত গম বিক্রয়ের টাকা কোথায় এবং কার কাছে আছে তা জানেন না বলে দাবি করেছেন ওই প্রকল্পের সভাপতি। অপরদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তবে বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন তারা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এ মাটি ভরাট প্রকল্পের ৩৩ দশমিক ৬৭৫ মে. টন গম গত ২৯ এবং ৩০ জুন ডিও দিয়ে দেওয়া হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা। তবে গম বিক্রির এ অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে তার হদিস মিলছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া হলদিঘর মাঠে মাটি ভরাট করার জন্য অর্থ বরাদ্ধ করা হলেও এক টুকরিও মাটি ফেলানো হয়নি। তবে, মাটি ভরাটের অর্থ উত্তলোন করা হয়েছে। তবে কাজ না করেও কিভাবে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনিয়নের ৪, ৫ ও৬ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার মোছা. পারভিন খাতুন জানান, আমি কিছুই জানি না। আমাকে সই দিতে বলেছে তাই আমি দিছি। তবে কে সই দিতে বলেছে তার কোনো সদত্তোর তিনি দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানার জন্য গেলে তিনি অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে মুঠোফোনে কাজ না করে প্রকল্পের বিল উঠলো কিভাবে এবং বরাদ্দকৃত গম বিক্রয়ের টাকা কোথায় এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ইউএনও এবং এসিল্যান্ড স্যারের কাছে জিজ্ঞাসা করেন আমার কাছে কোনো টাকা নেই। অপরদিকে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে মুঠোফোনে তিনি জানান, প্রকল্প ব্যাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে টাকা রাখা হয়েছে। এদিকে সহকারি কমিশনার ভূমি মো. লিয়াকত সালমান বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই জাননি না।
এদিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজে কোনো দুর্নীতি হলে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা। তিনি বলেন, কোনো দুর্নীতি আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
এবিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, এ প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।









