চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সবুজে চেয়ে গেছে আমনের মাঠ। বসন্ত বাতাসে আমন ধানের সবুজ ঢেউ প্রান্তিক কৃষকদের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে ধান গাছের সবুজপাতা ও কাঁচা শীষ। কিছুদিনের মধ্যেই শীষে দুধ-দানা গঠন শুরু হবে। আর এমন সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলে উঠছে প্রকৃতি। এ যেন রোপা আমন ধানের শীষে দুল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। অনেক কৃষকই খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত। সাম্প্রতিক ভয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি উপজেলার আমন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে সাতকানিয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৮৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৮৮৫ হেক্টর।
এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৬৫০ হেক্টর, উফশী জাতের ১১ হাজার ২১৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২০ হেক্টর জমি। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৯০৩ মে. টন। গত বছর আমন মৌসুমে এ উপজেলায় ধান উৎপাদন হয়েছিল ৫১ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন। এ মৌসুমে গত মৌসুম থেকে ৮০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাজালিয়ার বড়দুয়ারা এলাকায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, রোপা আমন ধানের মাঠে সবুজের সমারোহ। প্রতিটি ধানের ক্ষেতে দুলছে সবুজপাতা। ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকের। কৃষকরা মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান গাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠে সার, কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার এবং পার্চিং ব্যবহার করছেন কেউ কেউ।
বাজালিয়ার বড়দুয়ারার কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ধানের বাজার দর ভালো ছিল। তাই ৮০ শতক জমিতে আমন ধান আবাদ করেছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে। ক্ষেতে কয়েক দফায় সার-কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। ধানগাছের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে এবারে ভালো ফলন পাওয়া যেতে পারে। সরকার যদি ন্যায্য দাম দেয় তাহলে লাভবান হবেন তারা।
স্থানীয় কৃষক আজাদ হোসেন জানান, এবার আমন ফসলের মাঠ অনেক সুন্দর হয়েছে। প্রায় ১২০ শতক জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছেন। ধানের সবল-সতেজ চারা দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শীষ বের হবে। তাই এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, আমনের চারা রোপণের সময় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। এতে গাছ সঠিক সময়ে বেড়ে উঠতে পারে নি। এরপরেও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, সোনাকানিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের কিছু উঁচু জায়গায় অল্প সংখ্যক আমনের আগাম চারা রোপণ করা হয়েছে। সেখানে চাষিরা ইতিমধ্যে ধান কাটতে শুরু করেছে। হাইব্রিড, উচ্চফলনশীল জাতের ধান আবাদ করলে কম জমিতে বেশি ফসল উৎপাদন করা যায়।









