দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভাপা পিঠা বিক্রি করে আসছেন মালেক মিয়া। এ পিঠা বিক্রির লাভের টাকার এক-তৃতীয়াংশ মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা দিচ্ছেন আর একাংশ দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তার দোকানের প্রতিটি ভাপা পিঠা ২০টাকা থেকে শুরু করে বিক্রি হয় ১ হাজার টাকায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখেন পিঠাপ্রেমীরা।
সরেজমিনেদেখা যায়, নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ভেলানগর জেলখানা মোড় ওভার ব্রিজের নিচে মালেক মিয়ার দুই জোড়া চুলায় বসানো বিশেষ পাতিলের ভাঁপ উড়ছে। প্রতি সন্ধ্যায় এখানে বাড়ে পিঠাপ্রিয় মানুষের ভিড়। সন্ধ্যার পর থেকে বেচাকেনা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এ পিঠার সঙ্গে আতপচালের গুড়া, খেজুরের গুড় ও নারিকেলের পাশাপাশি মালাই, সুগন্ধি পোলাও চাল, কিসমিম, খেজুর, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, মোরব্বা ও মাওয়া ইত্যাদি উপাদান যুক্ত করা হয়। চাহিদা অনুসারে ২০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি ভাপা পিঠার দাম হয় ১হাজার টাকা পর্যন্ত।
পিঠা বিক্রেতার দাবি, পিঠার স্বাদের বৈচিত্রের কারনেই দৈনিক তিন ঘন্টায় ৮ থেকে ১০হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করতে পারেন। তার পিঠার দোকানের হরেক রকম পিঠা ও হরেক রকম দামের বিশেষত্ব্যের কারণে এখানে প্রতিবছরই এমন ভিড় হয়। তার পিঠার স্বাদের বৈচিত্রের কারণে সন্ধ্যার পরপরই প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠাপ্রেমিরা ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে এসে মালেক মিয়ার পিঠার দোকানে ভিড় করেছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও এখান থেকে পিঠা কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। পিঠা কিনতে আসা মোস্তাক মিয়ার সাথে কথা হয় তিনি জানান, নরসিংদীর শহরের আনাচে-কানাচে অনেক স্থানেই পিঠা পাওয়া যায়। কিন্তু এখানের পিঠা স্বাদের একটা ভিন্নতা আছে তাই এখানে এসে পিঠা খেতে আসি। এই পিঠায় নারিকেলের পাশাপাশি মালাই, সুগন্ধি পোলাও চাউল, কিসমিম, খেজুর, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, মোরব্বাসহ বিভিন্ন উপাদান দেওয়ার কারনে এখানে প্রতিদিনই সহকর্মীদের নিয়ে পিঠা খেতে আসি। পিঠা বিক্রেতা মালেক মিয়া বলেন, শীতের সময় এ ভাপা পিঠা বিক্রি করি। এছাড়া বছরের বাকি সময় সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত অটোরিকশা ও সন্ধ্যা থেকে রাত পযর্ন্ত পান সিগারেট বিক্রি করে আমি সংসার চালায়। আমি এ পিঠা বিক্রির লাভের টাকা এক-তৃতীয়াংশ মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা দিয়ে থাকি আর একাংশ দিয়ে সংসার চালায়।









