বিকেল বেলা আকাশটা খুব পরিষ্কার ছিলো। আকাশে ছিটেফোটাও মেঘও দেখতে পাইনি। এটা চিন্তা করতে করতে চা বানাতে লাগলো অনু! হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হল, চা চুলোয় লিকার হচ্ছে।
শহরে ৩ তলা বাসায় একলা থাকে সে। ছাদে গিয়েছিলো বিকেলে একটু শরীরচর্চা সাথে মেডিটেশন করবে বলে! খুবই টাইট শিডিউল তাঁর। সবই রুটিন মাফিক।
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দীর্ঘশ্বাস। আরে ঔষধটা খেতেই ভুলে গেছি। ধুর কিচ্ছুটি এখন মনে থাকে না আজকাল!
বাসার মালিক তাঁর চাচা, খুবই ভাল মানুষ। ডাকলেন মা অনু একটু এদিকে আয় তো। অনু : জ্বী চাচা আসছি। ঔষধ না খেয়েই নিচে নেমে দেখলেন চাচার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে বুক ব্যাথা।
অনু তাড়াতাড়ি করে তার বন্ধু ডাক্তার সামীকে কল করল। একি বলছিস... এখন! বিকেলের সময় কী সুস্থ স্বাভাবিক মানুষটা বলে মনের অজান্তেই এটা সেটা ভাবতে লাগলেন। দারোয়ান চাচাকে সামীর দেওয়া ঔষধ আনতে পাঠানো হল।অনু এই সময়টা চাচাকে পাশে বসে বললো, আমি জানি এখন অনেকটা কম লাগছে, তাই না?
চাচা : হুম ( হ্যাঁসূচক মাথা নাড়লো) অনু : মাঝে মাঝে তুমি যা কর না! এখন কেমন লাগছে? চাচার ভাল লাগছে, ঔষধ এখনও বাসায় পৌঁছেনি।
অনু এককাপ চা বানিয়ে দে। তুই বানাবি রহিমের মাকে নয়, ও ঠিক মত লিকার করতে পারে না। আচ্ছা বলে অনু এককাপ চা সাথে কিছু কালিজিরাসহ নিয়ে আসে।
এই নাও। এগুলো চোখ বন্ধ করে খেয়ে নাও। কোন না চলবে না। আচ্ছা দে বলে খেতে লাগলো... তুই না থাকলে এই অত্যাচার করার মানুষ কই পেতাম বল তো?
হু... বুঝছি! এত কথা বলতে হবে না... এই নাও তোমার গরম চা! কলিং বেল বেজে উঠলো!
অণুগল্প - ফৌজিয়া নিজাম তামান্না









