খালের এক পাড়ে মাদারবুনিয়া আরেক পাড়ে রসূলবাড়িয়া গ্রাম। দুই গ্রামে দুই থেকে তিন হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে স্কুল-কলেজ পড়–য়া খালের দু’পাড়ের মানুষদের যোগাযোগের ভরসা ছিল মাঝিবিহীন খেয়া নৌকা। দু’পাড়ে রশিতে বাঁধা নৌকাটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতো কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। রশিটেনে খেয়া নৌকা পার হওয়ার সময় পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মাদারবুনিয়া খালে একটি কংক্রিট কিংবা লোহার সেতু নির্মাণের। গ্রামবাসীদের দাবির সেতু নির্মাণ না হলেও দুই গ্রামের মানুষদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মাদারবুনিয়া খালে ২৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি দৃষ্টিনন্দন কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কাঠের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৫০ টাকা। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয়রা জানায়, রসূলবাড়িয়া ও মাদারবুনিয়ার খালটিতে দীর্ঘ ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে একটি খেয়া নৌকা ছিল। যাতায়াতে ছিলো না অন্যকোন ব্যবস্থা। অনেক সময় খেয়া নৌকাটিও ডুবে থাকতো। মাঝে মধ্যে নৌকা মেরামতের জন্য তোলা হত। তখন কলাগাছের ভেলায় পারাপার হতো লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিরা এ নিয়ে আশ্বাস দিলেও কোন সুরাহ হয়নি। তবে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির আহম্মেদ কোন আশ্বাস না দিয়ে নিজ উদ্যোগে কাঠের সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বলেন, মাদারবুনিয়া থেকে রসূলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত ১৫০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী আসেন। রশিটেনে খেয়া নৌকা পার হতে গিয়ে অধিকাংশ সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এমনকি কয়েক বছর আগে দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ কারণে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকরা শঙ্কায় ছিলেন। ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ঝুঁকি কমেছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির আহম্মেদ বলেন, একটি রশিতে বাঁধা খেয়া নৌকাতে ঝুঁকি নিয়ে মাদারবুনিয়া খাল পার হত স্থানীয়রা। ওখানকার স্থানীয় লোকজনের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৫০ টাকা কাঠের সেতুটি নির্মাণ করেছি। ওখানে যাতে একটি স্থায়ী সেতুর নির্মাণ করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করছি। যাতে দ্রæত গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হয়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুল কবির বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জায়গা পরিদর্শন করে আয়রণ ব্রীজ প্রকল্পে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









