- হুমকিতে গৌতমপুর সেতু
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার গৌতমপুর সাতোটা উত্তরপাড়া গ্রামে সরকারি গৌতমপুর ব্রিজের নিচ থেকে বেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছে প্রভাবশালী চক্র।
গৌতমপুর ব্রিজ থেকে রায়নগর সুইচগেট বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়ক বালির আস্তরনে ঢেকে আছে। শত শত ট্রাক চলাচল করায় ধুলায় চারিদিক অন্ধকারে ডুবে গেছে। স্থানীয়দের জীবন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার হতে সাহস পাচ্ছে না।
তবে স্থানীয়রা এ দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তির প্রার্থনা করছেন। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আর এভাবে মাটিখেকোদের নির্বিচারে মাটি খনন চলতে থাকলে গোমতী ব্রিজ হুমকিতে পড়বে বলে আশংকা স্থানীয়দের।
দীর্ঘ দিন ধরে মাটি তোলার কারণে ওই এলাকার গতমপুর সেতু ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ ছাড়া ট্রাক থেকে রাস্তায় মাটি পড়ে চলাচলের ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। চরআফড়া গ্রামের গতমপুর বাজারে সেতুটির অবস্থান। এর দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি তোলার কারণে আশপাশের জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, জমি থেকে ট্রাকে করে মাটি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ট্রাকগুলো যখন রাস্তা দিয়ে যায়, তখন চারদিকে ধূলাবালু ছড়িয়ে পড়ে। আবার ট্রাক থেকে রাস্তায় মাটি পড়ে একটি আস্তরণ তৈরি হয়েছে। মাটিবোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, তমিজ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাঁরা সবাই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। এ কারণে কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তবে মাটি তোলার কারণে গৌতমপুর সেতু ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাংশা উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হাসান জানান, খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটলে সেতুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য সেতুর কাছাকাছি থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি উত্তোলন করা ঠিক নয়।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলী জারান বলেন, হাবাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কৃষিজমি থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। এটি বন্ধে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিনে অভিযান চালালে রাতে মাটি তোলা হয়। সেতু এলাকা থেকে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









