- ভোগান্তিতে ১৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ
- পিছিয়ে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি
- দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি
পদ্মা নদীর চরাঞ্চল থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াতে গ্রামবাসীর নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো। যা এখানকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সাঁকোটি দীর্ঘদিন ব্যবহারে ভেঙ্গে গেছে। চলাচলের অনুপযোগী সাঁকো দিয়েই চলাচল করছে পদ্মার চরের ১৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে চরে উৎপাদিত ফসল উপজেলা সদরে নিয়ে আসতে পোহাতে হচ্ছে চরমভোগান্তি। এতে পিছিয়ে পড়ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। অসুস্থরোগীকে উপজেলা বা সদর হাসপাতালের নিতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন চরবাসী। রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মুরালীখোলা গ্রামের পাগলা ঘাটের কথা।
পদ্মা নদীরকোলে অবস্থিত এ সাঁকোটি। নদীর ওপারের ১৫ গ্রামের সঙ্গে উপজেলায় যাওয়ার একমাত্র পথ এ সাঁকো। প্রায় দেড়ফুট চওড়া সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করছে পদ্মার চরাঞ্চলের কয়েক লাখ সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ। সাঁকোটির জায়গায় সরকারিভাবে একটি পাকাসেতু হলে এ দুর্ভোগ থাকবেনা বলে দাবি স্থানীয়দের। সেতু হলে বাড়বে জীবনযাত্রার মান। ঘুরবে অর্থনীতির চাকা।
কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে পাগলের ঘাট। শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি শুকিয়ে যায়। বর্ষার ভরা মৌসুমে নদী তীরবর্তি এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। পদ্মার পানি বাড়লে সাঁকোর দুইপ্রান্ত পানিতে ডুবে থাকে। নৌকাতেই তখন চলতে হয় চরবাসীকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সাঁকো ব্যবহার করে প্রতিদিনি কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ১০ থেকে ১৫ গ্রামের কয়েকশ শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। গ্রামগুলো হলো মুড়ারীখোলা, পশ্চিম হারুয়া, মাধবপুর, হড়িনবাড়িয়া, বাঘঝাঁপা, ভাগলপুর, লস্করদিয়া, সালেপুর, কৃষ্ণগর, সাদারচরসহ আরো কয়েকটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী শহররক্ষা বেড়িবাঁধের কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মুড়ারীখোলা গ্রামের চৌরাস্তায় দুটি মুদি দোকান। একটি দোকান পাগলের দোকান নামে পরিচিত। পাগলের দোকানের পাশ দিয়ে উল্টদিকে একটি মাটির কাঁচা রাস্তা নেমে গেছে। রাস্তা দিয়ে পঞ্চাশ গজ সামনে এগিয়ে গেলে একটি বাঁশের লম্বা সেতু। সেঁতুর দৈঘ্য প্রায় দেড়শ মিটার। সাঁকো পার হওয়ার পর মাটির আঁকাবাঁকা রাস্তা। মাটির রাস্তার দুই পাশে দিগন্তজোড়া ফসলের ক্ষেত। পদ্মারকোল থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর সরিষা চাষ করা হয়েছে। হলুদ সরিষায় দুচোখ জুড়িয়ে যায়। প্রায় মাইলখানেক দুর থেকে গ্রাম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে।
পশ্চিম হারুয়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রতিদিন এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ১০ থেকে ১৫ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। বিশেষ করে শতাধিক শিক্ষার্থী সকাল বিকেল যাতায়াত করে। বর্ষার তাদের খুব সমস্যা হয়। কারণ বাঁশের সেতু ও চরের দিকের কিছু রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থীদের সকালে একবার নৌকায় করে দিয়ে যেতে হয়। আবার ছুটি হওয়ার পর তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। একটা সেতু হলে রাস্তা ঘাটও ভালো হতো। সবার জন্য খুব সুবিধে হতো।
মুরারীখোলা গ্রামের বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র বিশ^াস বলেন, চরাঞ্চলে ফসল খুব ভালো হয়। সব ধরণের ফসলের আবাদ করা হয়। তবে স্থায়ী সেতু না থাকায় ফসল মাথায় করে আনতে হয়। তবে যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় কৃষকদের অনেক উপকার হতো। কায়িক শ্রম যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও সময় অপচয় কম হতো। তাছাড়া বাঁশের সেতু নির্মাণ করতেও অনেক টাকা খরচ হয়। তিন চার বছর পরপর আবার নতুন করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়।
রূপসা মেধা চয়ন একাডেমীর প্রধান শিক্ষক রাজীব কুমার সরকার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি বেড়িবাঁধের পাশেই অবস্থিত। নদীভাঙন কবলিত চর এলাকায় বিদ্যালয়ের সংখ্যাকম। চর এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখার জন্য এ পথ দিয়ে যাতায়াত করে।
রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা জানান, সাঁকোর পাশেই রয়েছে একটি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধের ভিতরের অংশে। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে। বাঁধের ভেতরের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ফসল তুলতে যায়। আবার পদ্মাপাড়ের মানুষ ফসল বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসে। এতে সবার দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ওই এলাকায় একটি সেতু হলে খুব ভালো হয়। তখন যানবাহনে করে ফসল উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করতে পারবে চাষিরা। ঘুরবে তাদের ভাগ্যের চাকা।
কালুখালী উপজেলার প্রকৌশলী তৌহিদুল হক জোয়াদ্দার জানান, সাঁকো দিয়ে পারাপারের বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। এ বিষয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









