মাচায়-মাচায় ঝুলছে নানা জাতের লাউ। চাষিদের এসব লাউ দোলানো দৃশ দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে চলতি মৌসুমে গ্রামগঞ্জে আগাম বিভিন্ন জাতের লাউয়ের চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছে এ অঞ্চলের চাষিরা। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব লাউয়ের চাষ। কম খরচের অল্প জমিতে অধিক হারে লাউয়ের চাষাবাদ করতে পেরে খুশি চাষিরা।
নাওডাঙ্গা এলাকার বর্গা চাষি সন্তোষ চন্দ্র রায় (৫০) জানান, তার নিজ জমি না থাকলেও তিনি অন্যের জমি লিজ (কন্ট্রাক) নিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে লাউয়ের চাষাবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় একদিকে লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্যদিকে লাউয়ের বাজার দর ভাল থাকায় এপর্যন্ত তিনি ১ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। লাউয়ের বাজার দর এরকম থাকলে আড়াই বিঘা জমিতে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার লাউ বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন।তিনি আরও জানান, চার থেকে পাঁচ বিঘা জমি লিজ (কন্ট্রাক) নেন। প্রতি বিঘা জমি ১ বছরে ২০ হাজার টাকা দিতে হয় মালিককে। এভাবে তিনি মানুষের জমি লিজ নিয়ে সারা মৌসুমে লাউ, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করে দূর করেছেন পরিবারের অভাব। সেই সাথে তিনি একজন সফল চাষি হিসাবে পরিচিতও লাভ করেছেন।
একই এলাকার লাউ চাষি মোশারফ হোসেন দুলু (৪০) ও মিলন ইসলাম (৪৫)জানান, তারা প্রত্যেই ১ বিঘা জমিতে গ্রীষ্ম কালীন লাউ চাষ করেছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর লাউয়ের ফলন ভাল হয়েছে। দামও অনেক ভাল। তারা এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। তারা আরও জানান, এক বিঘা জমিতে ১০-২০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, লাউ চাষে প্রান্তিক চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা ও বিভিন্ন সহযোগীতা দেওয়ায় দিন দিন লাউ চাষে ঝুঁকছেন। এ উপজেলার মাটি লাউ চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের মাটি ভাল থাকায় চাষিরা ব্যাপক পরিমানে লাউসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করে শতশত কৃষক সাবলম্বী হচ্ছে। লাউ একটি প্রিয় সবজি। এ অঞ্চলেব সারা মৌসুমে লাউয়ের চাষ করা যায়। তিনি আরও জানান এ উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন ও খরিপ-১/২ মৌসুমে ১২ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করেছে চাষিরা। তবে এটি চলমান রয়েছে। আশা করছি ভরা শীত মৌসুম আস্তে আস্তে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করবেন চাষিরা।









