চলতি বছর দেশজুড়ে কয়েক দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অসহায় সব মানুষ। সেই সাথে বন্যার পানিতে বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘর-বাড়ি, ফসল ও পশু-পাখিও। বন্যার কবলে পড়ে খাদ্যের অভাবে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে অসহায় সব মানুষ, এমনকি পশু-পাখিও।
কয়েকদফা বন্যার পর সম্প্রতি কুড়িগ্রামের উলিপুরে গো-খাদ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খামারিসহ প্রান্তিক সব চাষিরা। ফলে টাকা দিয়ে সোনা মিললেও মিলছে না গরুর খড়। তাই অনেকেই পানির দরে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ জানায়, এ উপজেলায় বর্তমানে গরু ১ লাখ ২৫ হাজার ও মহিষের সংখ্যা ১০ হাজার রয়েছে। ছোট-বড় খামার রয়েছে ৪১৫টি। তবে এর মধ্যে খাদ্যের জোগান দিতে না পারায় ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এসব খামারে গরু প্রতি ৫ থেকে ৬ কেজি খড়ের প্রয়োজন হয়। খড়সহ অন্যান্য খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে অর্ধেক খড় গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। ফলে অনেক খামারি গবাদি প্রাণির কষ্ট সইতে না পেরে পানির দরেই বিক্রি করে দিচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার ধামশ্রেনী কাশিয়াগাড়ী, বুড়াবুড়ি, হাতিয়া ভবেশ, দলদলিয়া, অনন্তপুর, নয়াদাড়া, গুনাইগাছ, জোনাইডাঙ্গাসহ নানা এলাকার খামারি এবং প্রান্তিক কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ খড়ের আঁটি ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চড়া মূল্যে দূর-দূরান্ত থেকে এসকল খড় কিনে আনতে হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম। আবার অনেক সময় টাকা দিয়েও খড় মিলছে না। এদিকে দুধের মূল্য কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারীরা।
কাশিয়াগাড়ী গ্রামের খামারি জাহেদুল ইসলাম জানান, তার খামারে বর্তমানে ১২টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন কমপক্ষে শতাধিক আঁটির প্রয়োজন হয়। কিন্তু মূল্য বেশি হওয়ায় চাহিদামত গো-খাদ্যের জোগান দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
শহীদ এন্ড ডেইরী ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মুজিবুল আহসান রাজু জানান, গো-খাদ্যের চড়া দামের কারণে মিলছে না খড়। তিনি আরও জানান, তার খামারে আগে ৫৭টি গরু ছিল। কিন্তু খাদ্যের অভাবে ৪২টি গরু পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই বর্তমানে ১৫টি গরু রয়েছে। এসব গরুর খাদ্যের জোগান দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ৫ দফা বন্যায় খড়ের গাদা ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় গো-খাদ্য সংকট নিরসনে প্রণোদনা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ প্রধান জানান, করোনাকালীন প্রণোদনা পাওয়া গেলেও গো-খাদ্য সংকট নিরসনে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









