'এ জাতীয় কিছু আমরা জীবনে কখনও দেখিনি'- কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করা ডাক্তারদের মুখে এ কথাটা আপনি বহুবার শুনতে পাবেন।
ব্রিটেনের এই ডাক্তারেরা – যাদের অনেকেই হাসপাতালগুলোর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে কাজ করে এসেছেন – তারা চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই নতুন ভাইরাসের কথা জানতেন। তাদের অনেকে চীন এবং ইতালিতে থাকা সহকর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনেছেন, পড়েছেন।
তারা জানতেন যে এই রোগ ব্রিটেনে পৌঁছানো কিছুটা সময়ের বিষয় মাত্র।
কিন্তু যখন সত্যি সত্যি করোনাভাইরাস যুক্তরাজ্যে এলো, তখন আইসিইউর সবচেয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তাররাও এই ভাইরাসের সম্মুখীন হয়ে অবাক হয়ে গেলো।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীরই মৃদু উপসর্গ ছিল। আবার কারো কারো হয়তো কোনো উপসর্গই ছিল না। কিন্তু এরপরেও যে হাজার হাজার রোগীর অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে চলে গিয়েছিল –তাদের চিকিৎসা করতে গিয়ে ডাক্তাররা বুঝতে পারলেন– কোভিড-১৯ আসলে বিস্ময়কর ও জটিল একটি ভাইরাস।
কোভিড -১৯ মানবদেহে কীভাবে আক্রমণ করে – এ ব্যাপারে ডাক্তাররা যা জানতে পেরেছেন এবং যা এখনও জানতে পারেননি – তারই বর্ণনা রয়েছে এখানে।
এটি শুধুমাত্র ভাইরাস নিউমোনিয়া নয় – এরচেয়েও ভয়ংকর বস্তু।
প্যাডিংটনের সেন্ট মেরিজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট অধ্যাপক অ্যান্টনি গর্ডন জানিয়েছিলেন, ডাক্তারদের অনেকেই ধারণা ছিল এটা হবে শ্বাসতন্ত্র আক্রমণকারী ভাইরাস যা পরবর্তীতে নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে। মৌসুমি ফ্লুর মতোই একটি ফ্লু কিন্তু যা আরও ব্যাপক পরিসরে ছড়াচ্ছে।
তবে খুব দ্রুতই এটা স্পষ্ট হলো যে, এ ভাইরাস শুধু রোগীদের শ্বাসতন্ত্র নয় বরং আরও অনেক কিছু আক্রান্ত করছে। প্রথমত, কোভিড-১৯ এ অনেক বেশি পরিমাণ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। কিন্তু এছাড়াও এটা যে অসুস্থতা তৈরি করছে তা একেবারেই অন্যরকম। আমরা এর আগে কোনো রোগীর মধ্যে এমনটা দেখিনি এমনটাই দাবি বার্মিংহ্যামের চিকিৎসক রন ডানিয়েলসের।
একজন ডাক্তারের দৃষ্টিতে এ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। কারণ, সামনে আমাদের এত বেশি রোগীর মধ্যে এ অবস্থা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। অথচ আমরা এখনও এই ভাইরাসটির আচরণ বুঝতে হিমশিম খাচ্ছি।
ডাক্তারদের মনে হাজার প্রশ্ন থাকলেও যেসবের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে - তার চেয়ে প্রশ্ন অনেক বেশি।
আইসিইউর ডাক্তাররা এখনও যেসব প্রশ্ন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তা হলো:
১. কখন কোভিড-১৯ রোগীদের ভেন্টিলেশন দেবার সঠিক সময়?
২. এন্টি-ভাইরাল ওষুধের মধ্যে কোনটা সর্বোত্তম?
৩. সেরে-ওঠা রোগীদের রক্তের এন্টিবডি ব্যবহার কি এ সমস্যার সমাধান করতে পারে?
ডাক্তারদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসে ব্যাপক পরিমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই শুধুমাত্র এর উত্তর পাওয়া সম্ভব।
এ কারণেই আইসিইউর ডাক্তাররা অঅধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের আগেকার জ্ঞানের ভিত্তিতে কোভিড-১৯ রোগীদের ওষুধ দিতে পারছে না – তাদের বরং একেকজন রোগীর অবস্থা দেখে ঠিক করতে হচ্ছে, কী করবেন।
আনন্দবাজার/তা.তা









