খেলার মাঠের অধিকার নাগরিক অধিকার। এটি মন-শরীর ও সংস্কৃতির সুস্থ্য বিকাশের এক অন্যতম শর্ত। তবে, প্রাকৃতিক বৈচিত্র ও প্রতিবেশের মতোই বিভিন্ন এলাকায় খুন হচ্ছে খেলার মাঠ। যেখানে খেলার মাঠ রক্ষায় প্রয়োজন নানা উদ্যোগ সেখানে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা। খেলার মাঠ ধ্বংস করে বিভিন্নস্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর। বর্তমানে এর কবলে পড়েছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ঐতিহ্যবাহি নতুন বাজার মাঠ।
সম্প্রতি ওই মাঠের একাংশ ভরাট করে গৃহহীনদের জন্য সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই প্রকল্পের ঘর নির্মাণে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। এদিকে, খেলার মাঠ ভরাট করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করায় স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। এলাকার সচেতনবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয়রা জানান, জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল নতুন বাজার ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করার জন্য বালু দিয়ে মাঠের জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। তারা শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই খাসজমিটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। মাঠে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হলে এলাকার শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের খেলাধুলা করার মত আর কোনো জায়গা থাকবে না। তাছাড়া ওই মাঠে খেলাধূলার পাশপাশি নানা ধর্মীয় উৎসব (মাহফিল), সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সকল কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। প্রতি বছরই ২শ’ বছরের পুরনো সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ পইলের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা হয় ওই মাঠে। এতে সমাগম ঘটে কয়েক লক্ষ মানুষের। এছাড়া বৈশাখ মাসে ফসল তোলার মৌসুমে এই মাঠের চারপাশের বাসিন্দারা ধানের খলা তৈরি করে হাজার হাজার মণ ধান উত্তোলন করে থাকেন। এলাকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ওই মাঠের পরিবর্তে আশপাশের কোন খাস জমিতে ঘর নির্মাণের দাবি জানান তারা।
আল-আমিন নামে এক কলেজ ছাত্র বলেন, এ মাঠে আমরা ছোট বেলা থেকে খেলাধুলা করছি। মাঠটি থাকায় আমাদের বিভিন্ন কাজ-কাম করতে সহজ হয়। যদি এই মাঠে সরকারী ঘর নির্মাণ হয়, তাহলে আমাদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সমস্যা হবে।
এদিকে, ওই মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে প্রতিবাদ করলে সরকারী কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয় কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উপজেলা সহকারি তফসিলদার মাজহারুল ইসলাম। এ মামলায় এলাকার দুজন ব্যক্তি জেল কেটে জামিনে রয়েছেন বলে জানান তারা। তবে অন্যান্যরা গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘যুবসমাজ তথা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একমাত্র বিনোদনের ভরসা এই খেলার মাঠটি। প্রধানমন্ত্রী চাইলেই আমাদের খেলার মাঠটি ফিরে পেতে পারি’।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। খেলার মাঠ ভরাট করে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে অনেক আগে স্থানীয়রা কিছু সমস্যা করেছিল। বর্তমানে কোন সমস্যা নেই। কাজ চলমান, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে’।









