- সিলেট বিভাগীয় চা শ্রমিক সমাবেশ
মুল্লুক চলো আন্দোলনের ১০১ তম বছরে মৌলভীবাজারে চা শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২২ মে দুপুরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকদের অংশগ্রহণে শহরের বিভিন্ন সড়কে লাল পতাকা মিছিল প্রদক্ষিণ করে। পরে শহরের এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় চা শ্রমিক সমাবেশ।
সমাবেশে চা শ্রমিকদের ন্যনতম দৈনিক মজুরি ৫শ’ টাকা ভূমি অধিকারসহ ১০দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে চা উৎপাদন বাড়ছে। ২০২১ সালে রেকর্ড পরিমাণ ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। চায়ের দাম বেড়েছে, মালিকের মুনাফা বেড়েছে, বিপরীতে বাড়ছে চা শ্রমিকদের বঞ্চনা, শ্রম শোষণ, চলমান রয়েছে। বাড়েনি মজুরি, কর্মসংস্থান। বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। অথচ চা শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পায়নি। প্রায় ২শ’ বছর বসবাস করেও দেশের নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েও চা শ্রমিকেদর নেই ভূমির অধিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্যের দিকেও চা শ্রমিকরা পিছিয়ে। দেশের মানুষের মাথা পিছু আয় যখন বলা হচ্ছে ২৮০০ ডলারের উপরে তখনও চা বাগানের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১২০ টাকা। ১৬৮ বছর ধরে যে চা বাগান সেখানে মজুরি এখনও ১৬৮টাকা হয় নি। এমনকি এ অঞ্চলের ভারত, নেপালের তুলনায়ও কম মজুরি।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, আধুনিক যুগে এসেও দাসের মতো কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। এ অন্যায় শ্রম শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন দৈনিক মজুরি ৫শ’ টাকাসহ, গ্রাচ্যুয়িটি ৫ ভাগ মুনাফা বন্টনের বিধান, ভূমির স্থায়ী মালিকানা, অবসরপ্রাপ্ত চা শ্রমিকদের পেনসনও রেশন দেওয়া, রেশন হিসেবে সপ্তাহে শ্রমিক প্রতি ৫ কেজি এবং নির্ভরশীল প্রতিজনে ৩ কেজি চাল ও প্রতিমাসে ২ কেজি চা পাতা দেওয়া, কর্মক্ষেত্রে অসুস্থদের চিকিৎসা ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ, নিরিখের অতিরিক্ত কাঁচাপাতা উৎপাদনে এবং ছুটির দিনে কাজ করার জন্য দ্বিগুন হারে মজুরি, শিক্ষা-কর্মসংস্থানে বিশেষ কোটার ব্যবস্থা করার দাবি জানান বক্তারা। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি'র সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজী পাশীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি'র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।









