সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশ, গাজীপুরে আ.লীগের সম্মেলন
- সিলেট থেকে যুদ্ধ শুরু হলো: মির্জা ফখরুল
- বিএনপি আন্দোলন করতেই জানে না : কাদের
রাজনীতির মাঠে আরও বেশি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির ধারাবাহিক গণসমাবেশ ঘিরে রাজনীতির মাঠে অনেকটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেও সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ আর গাজীপুর শহরের রাজবাড়ী মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশস্থল নির্ধারিত সময়ের আগেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তায় মানুষ দাঁড়িয়ে নেতাদের বক্তব্য শুনেছেন। মূলত বেলা ১১টার দিকে নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গণসমাবেশ শুরু হয়।
গণসমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সিলেট থেকে যুদ্ধ শুরু হলো। এই সিলেট থেকেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র ফেরাতে এই সিলেট থেকেই আবার যুদ্ধ শুরু হলো।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশের মানুষের দাবি একটাই, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ। এ সমাবেশ থেকে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাই- সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর পরিচালনায় শুরু হওয়া সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রোকসানা বেগম শাহনাজ।
গতকাল সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমবেত হন। বেলা সাড়ে ১১টায় গণসমাবেশ শুরু হয়। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দলটির নেতারা বক্তব্য রাখছিলেন।
মূলত, বিএনপির প্রথম গণসমাবেশ হয় গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে (বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগ) গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ছাড়া বাকি সব স্থানে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। তবে ময়মনসিংহে গণসমাবেশের আগে অঘোষিত ধর্মঘট পালিত হয়। সেখানেও গণপরিবহন বন্ধ ছিল।
একইভাবে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে গতকাল ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। অন্যদিকে সিলেট জেলায় গতকাল সকাল ছয়টায় পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। এ ধর্মঘট চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। তবে ধর্মঘট উপেক্ষা করে অনেকে মোটরসাইকেলে কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে অথবা হেঁটে সমাবেশে যোগ দেন।
গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন
এদিকে, গতকাল শনিবার বিকেলে গাজীপুর শহরের রাজবাড়ী মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি এখন দিনের আলোতে অমাবস্যা দেখে, পূর্ণিমার রাতেও অমাবস্যা দেখে। তারা দেশের উন্নয়ন দেখে না। তারা বলে শুধু জনতার ঢল, অথচ তাদের সিলেটে জনতার ঢেউ নেই, সেখানে আছে সুরমার ঢেউ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন বলে আমাদের নিরাপদে প্রস্থান নিতে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে। কোন মুখে তারা এমন কথা বলে। তারাতো আন্দোলন করতেই জানে না। তারা মুখে দেশনেত্রী বলে ফেনা তোলে অথচ নেত্রীর জন্য একটি মিছিলও করতে পারে না।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের সভাপতিত্বে সম্মেলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমানা আলী টুসি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির সমাবেশগুলোতে খানপিনা ভালোই হচ্ছে। বিএনপি মনে হয় ভালোই আছে, কাঁথা, বালিশ, হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে সাত দিন আগে থেকেই সমাবেশস্থলে চলে যাচ্ছে। তারা গরুর মাংস খাচ্ছে, মুরগির মাংস খাচ্ছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, দেখতে দেখতে ১৩ বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর। এখন খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে। তাই খেলার জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলন রঙিন খোয়াবেই থাকবে। তারা এখন বিদেশিদের কাছে নালিশ করে নালিশ পার্টি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। বিএনপি জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস, তারা যদি মাঠে নামে তাহলে রাজপথে খেলা হবে। তারা শেখ হাসিনাকেও সম্মান করতে জানে না। শেখ হাসিনাকে হাসিনা বলে ডাকে অথচ শেখ হাসিনা দয়া করে তাদের নেত্রীকে দণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও বাড়িতে থাকতে দিয়েছে।









