মৌসুমি বায়ু প্রবাহে কাঁপছে লালমনিরহাটের পাচঁ উপজেলাসহ তিস্তাচরের ৬৩ চরের মানুষ। গত দুইদিনের শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে এসব এলাকার মানুষজন। অসহায় মানুষগুলো খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। গত শুক্রবার সকাল ৯টায় ছিল লালমনিরহাটে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় লালমনিরহাট সূর্যের দেখা দিলেও কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তবে জীবন-জীবিকার তাগিদে হাড়কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে খুব সকালে কাজের সন্ধানে রাস্তায় বের হয়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের অফিস সুত্রে জানান, গতশুক্রবার সকাল থেকেই লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতা লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যায় তাপমাত্রা কমে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। যা শুধু লালমনিরহাটে নয়, চলতি মৌসু্মে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ আবহাওয়া ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শীত মৌসুমের শেষ দিকে এসে লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে ঘন কুয়াশা ও তীব্রঠান্ডা। এর পাশাপাশি বরফ-শীতল বাতাসের প্রবাহ বাড়িয়ে দিয়েছে শীতের তীব্রতা। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শিশু-বৃদ্ধরা তো ঘর থেকেই বের হতে পারছে না। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। পাটগ্রাম উপজেলার ভ্যানচালক আশরাফ আলী বলেন, গত দুই দিন থেকে খুব ঠান্ডা। ঘর থেকে বাহিরে কাজে যেতে পারছিনা। কাজ নাই তাই বসে আছি।
লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় জানান, হাঁপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ার রোগির সংখ্যা বাড়ছে। শীতের তীব্রতা আরো বাড়লে রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এদিকে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আরও শীতবস্ত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









