সার্বিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে একটি বড় কার্গো বিমান গ্রিসে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় কার্গো বিমানটিতে থাকা আট ক্রুও নিহত হয়েছেন। বিমানটি উত্তর গ্রিসে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আগুনের কুণ্ডলি উড়তে দেখা যায়।
সার্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নেবোজা স্টেফানোভিচের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, বিমানটি ১১ দশমিক ৫ টন সামরিক পণ্য পরিবহন করছিল। যার মধ্যে প্রশিক্ষণ মর্টার শেলও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব পণ্যের ক্রেতা।
এদিকে গ্রিস কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানটিতে আটজন ক্রু সদস্য ছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির পাইলট জরুরি কল করেছিলেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ওই আট ক্রুর সবাই ইউক্রেনের নাগরিক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে গ্রিসের অ্যাথেন্স নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছেন, শনিবার রাতে আন্তোনোভ অ্যান-১২ বিমানটি উড়ে যাওয়ার সময় আকাশে থাকা অবস্থায়ই সেটিতে আগুন ধরে যায় এবং তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
গিওরগোস আর্কনটোপোলোস নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা গ্রিসের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ইআরটি টেলিভিশনকে জানান, তিনি বুঝতে পারছিলেন কিছু একটা গড়বড় হচ্ছে। এর পরপরই তিনি বিমানের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, আমি বাইরে যাই এবং বিমানের ইঞ্জিনে আগুন দেখতে পাই।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, দুর্ঘটনাস্থলে সাতটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ক্রমাগত বিস্ফোরণের কারণে তারা কাজ শুরু করতে পারেননি। গ্রিসের এক মেয়রের সহকারী ইআরটি টেলিভিশনকে বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার দুই ঘণ্টা পরও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
গ্রিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অথোরিটি বলেছে, প্রকৃতপক্ষে বিমানটি সার্বিয়া থেকে জর্ডান যাচ্ছিল। যদিও পরবর্তীতে জর্ডান নিশ্চিত করেছে, কেবল জ্বালানির জন্য বিমানটি আম্মানে থামতো। সাবেক সোভিয়েত নির্মিত টার্বোপ্রোপ এই বিমানটি কার্গো ক্যারিয়ার মেরিডিয়ান পরিচালনা করতো।
এদিকে সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার সময় গ্রিসে বিধ্বস্ত কার্গো বিমানটিতে কোনো অস্ত্র ছিল না বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
গতকাল রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, ডিজিডিপি (ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ডিফেন্স পারচেজ) ক্রয় চুক্তির আওতায়, কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার্বিয়া হতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর জন্য ক্রয়কৃত প্রশিক্ষণ মর্টার শেল বহনকারী একটি বিমান গ্রিসে বিধ্বস্ত হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, উক্ত চালানে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং উক্ত চালানটি বীমার আওতাভুক্ত।









