রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৈসাবির মূল আনুষ্ঠানিকতা। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এ সামাজিক আয়োজনে এখন মুখরিত শহর, নগর আর পাহাড়ি গ্রামগুলো। চারদিকে আনন্দের সুর লহরী আর ৈৈবসাবি আয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার চাকমা জনগোষ্ঠীর ‘ফুল বিজু’, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ‘হাঁড়িবসু’ আর মারমা সম্প্রদায়ের সূচিকাজ। সকালে শহরের রাজবাড়ি ঘাটে চাকমাদের ফুল বিজুর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। গর্জনতলী ঘাটে ত্রিপুরাদের হাঁড়িবসু উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী। এ সময় গড়াইয়া নৃত্য পরিবেশন করা হয়। কাপ্তাই হ্র্রদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে তিন দিনব্যাপি বৈসাবি উৎসবের শুরু হয়েছে মূল আনুষ্ঠানিকতা।
এ সময় জেলা পরিষদের সদস্য বিপুল ত্রিপুরা, ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুরেশ ত্রিপুরাসহ ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
ফুল ভাসানোর পর মুরব্বীদের স্নান করানো, নতুন বস্ত্র উপহার এবং পিঠা-পুলি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। এরপর নাচে-গানে আগত অতিথিদের মাতিয়ে তোলেন, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। তিনদিন ব্যাপী আয়োজনে (৩ এপ্রিল) বুধবার বিজু উৎসব পালন করা হবে। তরুণ-তরুণীরা এদিন সারাদিন হৈ-হুল্লোড় করে কাটাবে। এ বাড়ি থেকে ওবাড়ি নিমন্ত্রণ আর আতিথিয়েতা গ্রহণের আনন্দ ভাগাভাগী করবে সবাই।
আগামী শনিবার (১৬ এপ্রিল) মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) এর আয়োজন রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে মারমা সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রাই জল উৎসব’। এতে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে তিনদিন ব্যাপী বিজু উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন সংলগ্ন সাঙ্গু নদীর স্বচ্ছজলে ফুলে ভাসিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানালো তংচংগ্যা ও চাকমা জনগোষ্ঠীর মানুষ।
রান্যফুল সোসিয়াল অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি’র আয়োজনে ফুল ভাসানোর এ অনুষ্ঠানে এতিহ্যবাহী পোষাকে তংচংগ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়ের তরুণ তরুণী ও শিশুদের মাঝে আনন্দ দেখা যায়। গত দুইবছর মহামারী করোনার কারনে বড় আয়োজন করতে না পারায় এবছর ঝাকজমক অনুষ্ঠানরর আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় তারা গঙ্গা মায়ের কাছে পুরানো বছরের সব গ্লানি মুছে নতুন বছরের জন্য সুখ-শান্তি কামনা করেন। তাদের বিশ্বাস, সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় দেবতার উদ্দেশ্যে ফুল ভাসালে পুরনো বছরের গ্লানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার ভোরে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয়েছে। তঞ্চঙ্গ্যাদের রীতি অনুযায়ী এই ফুল ভাসানোর নাম ফুল বিজু। আগামী তিনদিন চলবে এই অনুষ্ঠান।
বিজু উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দীপিকা রানী তঞ্চঙ্গ্যা বলেনন, করোনা ভাইরাসের কারনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সীমিত আকারে সামাজিকতা ও ঘরোয়াভাবে বিজু উৎসব পালন করা হয়েছিল। তবে সরকারি ভাবে কোন বিধি নিষেধ না থাকায় এই বছর আমরা ঝাকজমক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এই অনুষ্ঠান তিনদিন চলবে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
বৈসু, সাংগ্রাইং, বিঝু ও বাংলার নববর্ষ উদযাপনের উৎসব জেলার মধ্যে সব চেয়ে জমকালো অনুষ্ঠান করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ মাঠে বর্ণাঢ্য র্যালি আয়োজন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজাতীয় শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ রয়েছে। আমাদের তেরটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈচিত্রময় সংস্কৃতি রয়েছে। এ সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের সকল জাতীগোষ্ঠির সম্প্রদায়ের সকল সংস্কৃতির মাঝে আমরা ঐক্য বন্ধন সৃষ্টি চাই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, তিন পার্বত্য জেলার মহিলা সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমনি বাসন্তী চাকমা, খাগড়াছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর জাহিদ হাসান, সিভিল সার্জন নুপুর কান্তি দে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান শানে আলমসহ পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ।
র্যালিতে জেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালি চলাকালে দেখা যায়, পরি সাজ, মারমাদের পাতা নৃত্যের বিশেষ মূহুর্ত, পালকি, নৌকায় চড়ছে, রাম-লক্ষণ, যমরাজসহ বিভিন্ন বিষয় সাজে সেজে র্যালিকে রাঙিয়ে তোলেন। তাছাড়া গরিয়া নৃত্যের দল ও সাওতাল দলের বাদযন্ত্র সুর র্যালিকে মাতিয়ে রাখে। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে র্যালি উদ্বোধন করেন অতিথিরা। জেলা পরিষদ মাঠ থেকে র্যালি শুরু করে শাপলা চত্বর হয়ে টাউনহলে গিয়ে শেষ হয়। পরে টাউনহলের মাঠে সাওতাল নৃত্য ও গরয়া নৃত্য পরিবেশন করেন।









