মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা। রোগী বাড়ায় দেখা দিয়েছে চোখের ড্রপের সংকট। বেশিরভাগ ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে না চোখের ড্রপ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো চোখ ওঠা রোগী। অনেক ফার্মেসির মালিক-কর্মিদের দেখা দিয়েছে চোখ ওঠা রোগ। ফলে কুলাউড়ায় চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তি বাড়ছে।
কর্মধা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুলতান আহমদের ২ বছরের শিশু তাওহিদের চোখ ওঠা রোগ হলে ড্রপ কিনতে গিয়ে উপজেলার রবির বাজারের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করে পাননি। পরে অনেক অনেক কষ্ট করে সংগ্রহ করেন তিনি। সুলতান আহমদ বলেন, এত চোখ ওঠা রোগী কখনো দেখিনি। অনেক কষ্ট করে ঔষধ সংগ্রহ করেছি।
অনেক এলাকায় একই পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যদের চোখ ওঠা রোগ দেখা দিয়েছে। দিন দিন বাড়ছে ”ক্ষু হাসপাতালে ভিড়। সুমন আহমদ নামের এক রোগী বলেন, হঠাৎ করে চোখ লাল হয়ে গিয়ে ফুলে গেছে। চোখে ঝাপসা দেখছি। আরেকজন বলেন, দুই তিন দিন আগে চোখ ওঠেছে। চোখ ব্যাথা করছে, ঝাপসা দেখছি। শহর ও গ্রামের অনেক ফার্মেসির কর্মীদের চোখ ওঠা রোগ হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন পরিস্থিতি চোখে পড়ে। উপজেলার রবির বাজারের সবচেয়ে বড় ফার্মেসি কিউর ফার্মেসিতে মিলছে না চোখের ড্রপ। বিভিন্ন ফার্মেসিতে শত শত রোগী ড্রপ সংকটে ফিরে যাচ্ছেন।
ফার্মেসি মালিকরা বলছেন, ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ড্রপ সরবরাহ করতে পারছেন না। রবির বাজারের সুপার ড্রাগস ফার্মেসির মালিক বাবুল আহমদ বলেন, হঠাৎ চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা বাড়ায় ড্রপের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে কয়েক দিন গেলে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যোগ করেন তিনি।
তবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়াতে বলছেন চিকিৎসকরা। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত ছড়াচ্ছে এই রোগ। আক্রান্তদের অনেকেই শিশু। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই এ রোগ কমে যায় বলছেন চিকিৎসকরা। তবে জটিল রূপ ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলছেন তাঁরা।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসা নিলে সেরে উঠবে। অনেক সময় ঔষধ ছাড়াও এ রোগ কমে যায়। স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চোখ ওঠা রোগীর পরিমাণ বেশি রয়েছে। বাইরে গেলে রোগীদের কালো চশমা পরে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।









