- অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল হাতে হাতে
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে কয়েকগুণ। উঠতি বয়সের ছেলেরা চালাচ্ছে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল। এতে দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে ঘাটাইলের সড়ক-মহাসড়ক। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। শুধু প্রবাসীদের সন্তান নয়, উপজেলার নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানদেরও মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাচল করতে দেখা যায়। এরা মোটরসাইকেল চালানোর সময় বাওলি দিয়ে দিয়ে গাড়ি চালায় এতে করে ঘাটাইলের সড়ক-মহাসড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছেন। এমনটাই অভিযোগ
ঘাটাইল বাসির।অধিকাংশ বাইকের নেই নিবন্ধন। চালকরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকারও প্রশ্ন ওঠে না।
রিক্সা চালক কামাল হোসেন বলেন, ছোট ছোট পোলাপাইনরা বাউলি দিয়া দিয়া হুন্ডা চালায় মাঝেমধ্যে আমাদের রিকশাতেও ধাক্কা লাগায় কিছু বলতে গেলেই মারতে আসে। অটো চালক ফেরদৌস বলেন, স্কুলের পোলাপানদের হোন্ডা চালানোর ভাব দেইখা আমাগরে ডর লাগে, হোন্ডা চালানোর সময় ওন্ডার উপরে বইসা বইসা নাচ দেয় আর হোন্ডা চালায়, প্রায় দিনই আমাগো অটোর সাথে ধাক্কা লাগায় অনেক সময় আমাগো অটোর অনেক ক্ষতি হয়ে যায়, এদের কিছু বলতে গেলেই কয়, ওই ব্যাটা তোর বাপের রাস্তা? আমরা গরীব মানুষ তাই ভয়ে কিছু বলি না। বলতে গেলেই গায়ে হাত তোলে আর আজেবাজে গালিগালাজ পারে। অটো চালানোর সময় চোখের সামনে কত হোন্ডা আলাই দেখলাম এক্সিডেন্ট কইরা হাত-পা ভাইঙ্গা গেল। সব দোষ এদের বাবা-মায়ের, স্কুলে পড়ুয়া পোলাপানদের কেন মোটরসাইকেল কিনা দেয় তারা।
উপজেলার বিভিন্ন কোম্পানির মোটরসাইকেল শোরুমের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে দেড়শ সিসির মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে ৯০৫টি। এ ধরনের বেশিরভাগ মোটরসাইকেলেই রেডি পিকআপযুক্ত। অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুতগতি ওঠে। তাই উঠতি বয়সের ছেলেদের পছন্দের তালিকায় এই দেড়শ সিসির বাইক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শোরুমের এক মালিক বলেন, গত মাসে তিনি ৪১টি বাইক বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ১১ বাইকের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোটরসাইকেল কেনার তালিকায় প্রথম সারিতে আছে প্রবাসী বাবার স্কুল-কলেজপড়ূয়া সন্তান। আত্মহত্যা, লেখাপড়া বন্ধ এবং বাবা-মাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা আদায় করে নেয় পছন্দের বাইক।
গত (১২ ডিসেম্বর) সোমবার উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় একটি মোটরসাইকেল বেপরোয়া ভাবে চালানোর জন্য ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে নিহত হয় ঘাটাইল সরকারি গণপাইলট স্কুলের দশম শ্রেণীর দুইজন ছাত্র এবং গুরুতর আহত হয় আরো একজন। এবং কয়েক মাস আগে ধলাপাড়া এলাকায় বেপরোয়া ভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে আরও তিন স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়।গত বছর উপজেলার কাইতকাই গ্রামে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় আত্মহত্যা করে মিশু নামের এক স্কুলছাত্র।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, উঠতি বয়সীদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ার ব্যাপারে পরিবার এবং সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর কার্যক্রম চলমান। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।









