হুমকিতে পরিবেশ
- বিনা বাঁধায় মাইলের পর মাইল পাহাড় সাবাড়
- প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলছেন না কেউ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের দোহাই দিয়েই চলছে অবাদে পাহাড়কাটা। মির্জাপুর পাহাড়তলীসহ একাধিক পাহাড়ের মাটি, বালু ও গাছকেটে বিক্রি, আবাস্থল গড়ে তোলাসহ নানা কারণে এসব পাহাড় নির্বিচারে বিলীন হচ্ছে। প্রতিদিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সমানতালে চলে পাহাড় ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছকাটা। এ যেন পাহাড় ও গাছ কাটার মহোৎসব।
একইভাবে বিগত কয়েক বছরে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশি পাহাড় ও টিলাকেটে সমতল করা হয়েছে। যা প্রকৃতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাপাক্ষোভ থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। প্রভাবশালী একটি মহল ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড়ের মাটি ও গাছকেটে সাবাড় করছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন মির্জাপুর ইউনিয়নের পাহাড়তলীসহ ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উঁচু পাহাড়ের মাঝখানে মাটিকেটে করা হয়েছে সমতল। পাশেই দেখা যায় হারানোর পাহাড়ের ক্ষতচিহ্ন। কোথাও কোথাও পাহাড়ের বুক চিরে সমতল করা জায়গায় স্থানীয় এক শ্রেণির বাসিন্দারা ঘর নির্মাণের কাজে ব্যস্ত। এছাড়াও এসব পাহাড়ের মাটিকাটার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক মেশিন। যার মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে পাহাড়ের মাটিকেটে ফেলা যায়। পরে সেগুলোকে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেকেই গর্ত বা জমি ভরাট করে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেকটা বিনা বাঁধায় মাইলের পর মাইল পাহাড় সাবাড় করছে। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলছেন না। পাহাড়কাটারোধে উদ্যোগ না নিলে আর কিছুদিন পর এখানে আর পাহাড় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সচেতন নাগরিকরা জানান, পাহাড়কাটার বিষয়ে আমরা সুশীল সমাজ প্রতিবাদ করে আসছি। প্রশাসন কখনো কখনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও আবার থমকে যায়। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা জড়িত বলে মনে করছি। দিন দিন পাহাড়ি জনপদগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক বদরুল হুদা জানান, প্রশাসনিক সহযোগিতার প্রয়োজন। এসব বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করা হয়না। পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ একটি বে-আইনি কাজ। যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের যথাযথ আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।









