মহামারী করোনা পরিস্থিতি পিছনে ফিরে তাকানোর এবং পুরো অর্থনীতি ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে কাজে লাগানোর অভিন্ন এক সুযোগ করে দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসার স্বীয় স্বার্থ ও অভিন্ন স্বার্থকে এক কাঠামোর মাঝে নিয়ে আসতে হবে বলে জানান নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নিক্কি এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সম্পদ কুক্ষিগত করা এবং ভয়াবহ বেকারত্ব এ পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল। করোনা সংক্রমণের আগে যেখানে ছিল এই বিশ্ব, তাকে সেখানে ফিরে যেতে দেয়া উচিত হবে না। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানে ফিরে যাওয়া মোটেও উচিত নয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, করোনার আগে ছিল ভয়ঙ্কর এক পৃথিবী, যেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। এখন আমরা এমন একটি নতুন বিশ্বের দিকে যেতে চাই, যেখানে ওইসব ভয়ঙ্কর জিনিসগুলোর অস্তিত্ব থাকবে না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, পুরো মানবজাতি তার নিজের স্বার্থের নিজেকে পরিচালিত করে, অর্থনীতির তত্ত্বে এটা বলা হয়। এখন এটাকে পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে অর্থনীতির মূলে ফিরে যেতে হবে। অর্থনীতিতে স্বীয় স্বার্থ এবং অভিন্ন স্বার্থের জন্য নিজেকে পরিচালিত করতে হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের দুই রকম ব্যবসা রয়েছে। একটি হলো স্বীয় স্বার্থের বাণিজ্য, এখানে সর্বোচ্চ লাভ করা যায়। অন্যটি হচ্ছে অভিন্ন স্বার্থ। যেখানে কোম্পানির ব্যক্তিগত লাভের অংশ শূন্য। এটাকে আমরা সামাজিক বাণিজ্য বলে থাকি। অভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য বাণিজ্য বা ব্যবসার ডিজাইন করবো আমরা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, অভিন্ন স্বার্থ এবং ব্যক্তি স্বার্থের মাঝে পরিষ্কার সংঘাতের ফলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার স্বার্থপরতা ও বিশ্বায়নের মতো সমস্যাগুলোর বিস্তার ঘটেছে। অর্থনীতিকে অভিন্ন স্বার্থ আনার মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান অর্জন করা যেতে পারে। এটা করার জন্য করোনা সঙ্কট হচ্ছে সবচেয়ে ভাল সময়।
নতুন একটি অর্থনৈতিক ইঞ্জিন বা চালক গড়ে তোলার প্রতি আহ্বান করেন বাংলাদেশি এই নোবেল বিজয়ী, যা স্বীয় ও অভিন্ন স্বার্থকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি কাঠামোর ভিতরে নিয়ে আসবে।
আনন্দবাজার/এফআইবি









