- দুর্ভোগে এলাকাবাসী
নেত্রকোণায় ৫টি পৌরশহর ও উপজেলা সদরের ঘনবসতি এলাকায় থাকা মজা পুকুর সংস্কার না হওয়ায় পুকুরের পানি যেমন ব্যবহার করা যাচ্ছে না তেমনি পুকুরগুলো মশার উৎপত্তিস্থলে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া এসব পুকুরে ময়লা জমতে জমতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আর এতে এলাকাবাসি পড়েছেন মারাত্মক দুর্ভোগে। এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব পুকুর সংস্কারে পর্যায়ক্রমে নেয়া হচ্ছে পদক্ষেপ।
জেলায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষের মধ্যে নেত্রকোণা, মদন, কেন্দুয়া, মোহনগঞ্জ এবং দূর্গাপুর পৌরশহর ও এ ৫টি উপজেলা সদরে অন্তত ৫ লাখ মানুষের বসবাস। ঘনবসতিপূর্ণ এসব এলাকায় সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে অন্তত অর্ধশত মজা পুকুর।
নেত্রকোণার পৌরশহর ও উপজেলা সদরের এসব পুকুরে ময়লা আবর্জনা ও কচুরিপানা জমে ভরাটপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারহীন অবস্থায় থাকা এসব পুকুরের পানিও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাছাড়া মশার উৎপাদন বৃদ্ধির আদর্শস্থানে পরিণত হয়েছে এসব পুকুর। যার ফলে ডেঙ্গু, চিকনগুণিয়া, ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের আশংকায় দিনাতিপাত করছেন এসব এলাকার মানুষ।
এদিকে পুকুরগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিশুদের সাঁতার কাটা যেমন অসম্ভব হয়ে পরেছে তেমনি থালা বাসন ধোঁয়া, গোসল করাসহ অন্যান্য নিত্তনৈমিত্তিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে মারাত্মক ভাবে।
বাজারের পাশের পুকুরগুলোর অবস্থা একদমই নাজুক। কোনো কোনো এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাজারের পুরো বর্জ্য ফেলানো হচ্ছে পার্শবর্তী পুকুরগুলো। তাই ময়লা আবর্জনা জমতে জমতে ভরাট হয়ে এখন আর পুকুর বলে চেনারও উপায় নেই এমনকি এসব পুকুর সংস্কারের অভাবে পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার পেছনে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ি করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।
এমতাবস্থায় জনদুভোর্গের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুকুরগুলো সংস্কার করা জরুরি। তাই জরুরি ভিত্তিতে এসব পুকুর সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া কর্তৃপক্ষের কাছে এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের।
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান জানান, এরই মাঝে জেলা পরিষদের আওতাধীন পুকুর সংস্কারে টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। অতি শীঘ্রই পৌর এলাকায় থাকা মজা পুকুরগুলোও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। ধীরে ধীরে সব মজা পুকুর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে দেয়া হবে।









