দেশব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়ে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পাশে মহানুভবতার হাত বাড়িয়ে নজির বিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন একজন রিক্সা চালক।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ সোহরাব উদ্দিন। তিনি পেশায় একজন রিক্সাচালক। সমাজের বিত্তবাণ মানুষের পাশাপাশি তিনিও দিয়েছেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে। কিন্তু এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া ছিলো অন্য সবার অগোচরে।
একখন্ড জমিই ছিল রিক্সাচালক সোহরাব উদ্দিনের একমাএ সম্বল। আর এই একখন্ড জমিতেই ছিল একখানা ঘর। সোহরাব উদ্দিনের স্বপ্ন ছিল একটি বড় ঘর নির্মাণ করার। ঘর করার স্বপ্ন নিয়েই দিন-রাত পরিশ্রম করে জমিয়েছিলেন ২৬ হাজার টাকা।করোনা ভাইরাসের কারণে তার আশ-পাশের মানুষদের করুণ অবস্থা তার হৃদয়কে গভীর ভাবে ব্যাথিত করলো। ঠিক তখনি এই হতদরিদ্র,দিনমজুর, রিক্সাচালক নিজের কষ্টার্জিত ২৬ হাজার টাকার ত্রাণ কিনে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাড়িঁয়েছেন।
এই ২৬ হাজার টাকাই ছিলো তার একমাএ সম্বল এবং একটি ঘর করার স্বপ্ন নিয়েই জমিয়েছিলেন এই ২৬ হাজার টাকা। কিন্তু এই ত্রাণ অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া ছিল অন্যরকম পন্থায়। কোন লোক দেখানো ফটোশেসন করে নয়। সবার অগোচরে রাতের অন্ধকারে নিজের রিক্সায় করে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিন মজুর,রিক্সাচালক মোঃ সোহরাব উদ্দিন জানান, আমি যহন দেকছি আমাগোর এলাকার অনেক মাইনষে খাওনের অভাবে দিন পার করতাছে। এলাকার অনেক মানুষ অটো রিক্সা, রিক্সা,সিএনজি,নছিমন চালাইতো। এখন আর এই রোগের (ভাইরাস) কারণে চালাইতে পারেনা। তহন তাগর (তাদের) এই কষ্ট দেইখ্যা আমি আমার মনডারে বুঝাইতে পারলাম না, তাই আমি আমার ঘর করার ২৬ হাজার ট্যাহা দিয়া আল্লাহর রহমতে ১২০ টি পরিবারে চাল,ডাল, আলু,তেল,সাবান আমি দিতে পারছি। এতে আমার মনটা বেজায় খুঁশি।
আনন্দবাজার/শহক








