শস্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর জেলা নওগাঁ। ফসল উৎপাদনের জন্য যেন এক যাদুর উপনিবেশ এ জেলার মাটি। ইতোমধ্যে চাল ও আমের রাজধানী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছে এ জেলা। আর বর্তমানে সরিষার হলুদ ফুলের সৌন্দর্যে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। যত দূর চোখ যায়, শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষা ফুলে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে সরিষা চাষের এমন চিত্র দেখা যায়। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ভরপুর ক্ষেত-খামার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ৩২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৫৪০ হেক্টরে সরিষার চাষ হয়েছে।
চাষিরা জানান, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো পাওয়া যাবে। সরিষা জমিতে বপন করার পর থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে পরিপক্ব হতে। সরিষার বপনের পর ফুল আসে এক মাস পর। দেড় মাস পর ফুলে সরিষা ধরে। নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের কৃষক আমির বলেন, আমি চার একর জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো আছে। তাই সরিষার চাষও ভালো হয়েছে। বাজার যদি ভালো থাকে, দুই হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারব।
রানীনগর উপজেলার কুনৌজ গ্রামের কৃষক বাচ্চু জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন তিনি। তার সরিষা ক্ষেত খুবই ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার ক্ষেতে কোনো রোগবালাই দেখা দেয় নাই। আশা করছেন, এবার ভালো ফলন পাবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শামছুল ওয়াদুদ বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এক হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি পরিমাণ সরিষা চাষ হয়েছে। ঠিক সময়ে জমি চাষযোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকরা সুযোগ বুঝে সরিষা চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো ক্ষতি না হলে জেলায় সরিষা আবাদে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









