বাসস্ট্যান্ড আছে, নেই বাস। নেই লেগুনা, নেই যানজট। বাস কিংবা লেগুনা-সিএনজির হ্যাল্পার কিংবা ড্রাইভারের সিলেট, সুনামগঞ্জ, ছয়হারা-আক্তাপাড়া বলে নেই যাত্রী উঠানোর হাঁকডাকও। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ালে মনে হয় পিনপতন নিরবতা।
নেই যানবাহনের অযাচিত হুইসেল আর নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে যাত্রীদের দৌঁড়। নেই লোকে গিজগিজ করা পুরোনো দৃশ্য। এমন দৃশ্যে গত একমাসেরও বেশি সময় ধরে অভ্যস্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার। অভিন্ন এই দৃশ্য উপজেলার প্রাণকেন্দ্র শান্তিগঞ্জ বাজার, নোয়াখালি বাজার, গনিগঞ্জ বাজার এবং পাথারিয়া বাজারেও।
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গণপরিবহণ বন্ধ রাখায় এমন দৃশ্য বাসস্ট্যান্ডগুলোতে। এতে পুরোপুরিভাবেই বদলে গেছে পরিবহণ সেবায় নিয়োজিত ও বাসস্ট্যান্ড নির্ভর শ্রমিকদের জীবন ব্যবস্থা। গাড়ির চাকার সাথে থেমে আছে তাদের জীবনও। কর্মহীন হয়ে অনেক কষ্টেশিষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করার এক বোবা অনুভূতি কাজ করছে গণপরিবহণের সাথে জড়িত শ্রমিকদের চোখে-মুখে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কর্মহীন হয়ে হাতগুঁটিয়ে বাড়িতে বসে আছেন উপজেলার সহস্রাধিক শ্রমিক। গ্রামের অভ্যন্তরে, পুলিশের তাড়া খেয়ে পেটের দায়ে রাস্তায় বের হয়ে দু’চারজন যাত্রীবহণ করার চেষ্টা করছেন কিছু সংখ্যক সিএনজি চালকেরা।
ফখরুল আহমদ নামের একজন লেগুনা চালক বলেন, ‘দীর্ঘ একমাস ধরে আমার লেগুনা বন্ধ। আমার আয়ের অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। সন্তানদের নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। এ অবস্থায় সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা না করেন তাহলে আমাদের বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।’
জালাল উদ্দিন নামের অপর এক ড্রাইভার বলেন, ‘আমরা কীভাবে চলবো তা ভেবে পাচ্ছিনা। নিজেকে বড় অসহায় লাগছে। না পারছি কারো কাছে হাত পাততে না পারছি সহ্য করতে। জানিনা এ অবস্থা আর কতদিন চলবে। যদি দ্রুত এই অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে আমাদের বেঁচে থাকা কষ্টকর হবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, ‘আমি আমার ইউনিয়ন পশ্চিম পাগলার সকল সিএনজি, লেগুনা, বাস-মিনিবাস, রিকশা, বস্তীবাসী, চন্দ ও পিকআপভ্যান-ট্রাক শ্রমিকদের সরকারি জিআর (চাল) প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে জোরালোভাবে আলোচনা করছি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে। আশা করছি আমরা এই প্রকল্পটি অনুমোদন করাতে পারবো।’
আনন্দবাজার/শহক/ নাহিদ









