বালুচরে বেগুনচাষে স্বাবলম্বী গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অনেক চাষি। কম খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় বেগুন চাষে ঝুঁকছেন এখানকার অনেক কৃষক। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অনেক এলাকা জুড়ে চাষ হয়েছে বর্ষালী বেগুনের। বর্ষালী বেগুনচাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক। বেশ কিছু কৃষক লাভের বড় অংশ ঘরে তুলছেন। ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেছ, চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যবদলে দিয়েছে বর্ষালী বেগুন। তাদের হাতে আসছে নগদ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা। তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর চর বাটিকামারী, কাপাসিয়া, কামারজানি, খারজানি, শ্রীপুর, বেলকা, পোড়ার চরজুড়ে উঁচুজমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর চাষিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে বর্ষালী বেগুনচাষে। পলি মাটি পেয়ে বেগুনের ফলনও ভালো হয়েছে। জমি থেকে বেপারীরা প্রতি কেজি বেগুন ৪০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে এ বেগুন চলে যায় নৌকাযোগে বিভিন্ন জেলায়।
সুন্দরগঞ্জের মোল্লারচরের বাসিন্দা বাজ্জাক বলেন, আমরাতো চরের মানুষ। সুখ-দু:খ মিলেই আছি। কখনো পানিতে ডুবে থাকি। পানি নেমে গেলে জমিতে পলি জমে। এ পলিমাটি আমারদের খাবার যোগায়। যে কোনো বীজ বপন করলেই ভালো ফলন দেয়। আর এ ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাই আমরা। সেই নগদ টাকা দিয়ে চলে আমাদের সংসার।
বাদামের চরের কৃষক চান্দু মিয়া বলেন, আমার জমিতে প্রচুর পলি জমেছে। আমি ৪ হাজার টাকা খরচ করে ৫ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে ৬০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। এতে খরচ উঠেও লাভ হয়েছে অন্তত ৫৫ হাজার টাকা।
কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, এবার বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চরের মানুষ কাজে নেমে পড়ে। ঘর মেরামতের পর পলি পড়া জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। চরে মরিচ, বেগুন লাগায়। অল্প যত্নেই ভালো ফলন হয়। উঁচু চরের বিভিন্ন স্থানে বর্ষালী বেগুন অনেক চাষির ভাগ্যবদলে দিয়েছে।এ ভাবে উঁচু চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যবদলে দিয়েছে বর্ষালী বেগুন। তাদের হাতে আসছে নগদ টাকা আরও লাভ বেশি হচ্ছে তাদের।









