পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছে-এসেছে দারুণ মাস। আমি জেনে গেছি তুমি আসিবেনা ফিরে, মিটিবেনা পিয়াস...। ঋতুরাজ বসন্তের আগমণকে ঘিরে রচিত হয়েছে কতইনা গান, গল্প, কবিতা। প্রতিবছর যেন এই দিনটির আগমণের অপেক্ষায় থাকেন সংস্কৃতিমনা মানুষজন। বসন্তের উচ্ছলতা ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে গতকাল উন্মাদনায় ভাসে বাঙালির মন। পিছিয়ে নেই রংপুরের তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন বয়সীরাও। তবে বসন্ত বরণে কোনো আয়োজন ছিলনা সাহিত্য-সংস্কৃতি পল্লী খ্যাত টাউনহল চত্বর রংপুরের সংস্কৃতিপাড়ায়। করোনা অতিমারির কারণে গত বছর বসন্ত উৎসব সীমিত আকারে করা হলেও এবারে রংপুরে সরকারি- বেসরকারিভাবে কোন আয়োজন করা হয়নি।
পঞ্জিকা হিসেবে ফাল্গুন মাস শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার থেকে, একই দিনে আবার বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা দিবসও পালন করা হয়। একই তারিখে দুটি বিশেষ দিবসের কারণে গতকাল ছিল বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের কাছে অন্যরকম এক অনুভ’তি। কপালে টিপ, পায়ে নূপুর, খোঁপায় ফুল সেঁটে বাসন্তী রঙের শাড়িতে তরুণী এবং পাঞ্জাবি-ফতুয়া পরা ছেলেদের দখলে ছিল রংপুরের বিভিন্ন পার্ক ও রেষ্টুরেন্ট। নগরীর চিকলী বিল ওয়াটার পার্ক, সুরভী উদ্যান, চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, তাজহাট জমিদার বাড়ি, বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে তাদের সরব উপস্থিতি থাকলেও ফাঁকা ছিল সংস্কৃতিপাড়া খ্যাত রংপুর টাউনহল চত্বর। সেখানে ছিলনা ঋতুরাজ বসন্ত বরণের কোন আয়োজন। এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলা কালচারাল অফিসার নুঝাত তাবাসসুম রিমু জানান, শিল্পকলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১৮ ফেব্রুয়ারি। তাই একসঙ্গে ওইদিন বসন্ত বরণ ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে।
অন্যদিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবসে গতকাল সোমবার প্রেমিক-প্রেমিকাদের পদচারণায় মুখরিত ছিল রংপুরের তিস্তার চর। সবুজ ফসলের মাঠও যেন হার মেনে যায় তাদের বাহারি পোশাকে। চরের সাধারণ মানুষ, নৌকার মাঝি-মাল্লা ও চরে কর্মরত কৃষি শ্রমিকরা দিনভর উপলব্ধি করেন ভালবাসা দিবসের নতুন এই অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে রংপুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রেমিক জুটি আসতে থাকেন গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতু এলাকায়। নৌকায় নদী পার হয়ে সারাদিন ছুটে চলেন তারা নদীর তীর, ফসলের মাঠ কিংবা আঁকা-বাকা চিরায়ত গ্রামীণ মেঠো পথে। কেউ কেউ বালু চরের মাঝখানে ফুটন্ত শিমুল গাছের নিচে সময় কাটান। কেউ কেউ আবার ডিঙ্গী নৌকা ভাড়া করে ছুটে চলেন তিস্তায়। পরিচিত প্রেমিক জুটিরা দল বেঁধে গানের আসর বসান সেতুর উজানে মঠেরপাড় এলাকায় তিস্তার উপর নির্মিত স্পারে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাওন বলেন, এর আগে ভালোবাসা দিবস পালন করেছি রংপুর চিড়িয়ানাখানা ও পিনকিন স্পট ভিন্নজগতে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে দিনটি পালনে এবার নদীপারে এসেছি। সরকারি রংপুর কলেজ থেকে আসা বিপ্লব রহমান বলেন, নতুন অভিজ্ঞতাসহ দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে তিস্তার চরে আসার পরিকল্পনা করা হয় সাতদিন আগে। প্রেমিকাকে সাথে নিয়ে গঙ্গাচড়া সদর থেকে আসা মাহমুদ হাসান বলেন, তিস্তার চরইতো আমাদের বিনোদনের স্থান। দূরে যাওয়ার সুযোগ কই! নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রেমিক জুটি জানান, প্রেমালাপ করতে শহর থেকে দূরে নদী পারের এই নির্জন এলাকায় এসেছি।
মহিপুর খেয়াঘাটের মাঝি সাদ্দাম হোসেন জানান, গতকাল সকাল থেকে শতাধিক প্রেমিক জুটি নদী পার হয়ে চরে এসেছে। চরাঞ্চলের ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া বলেন, এতদিন ভালবাসা দিবস টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে দেখেছি। এবারে চরাঞ্চলে তা বাস্তবে দেখলাম। চরের সাধারণ মানুষও ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রেমিক জুটির আনন্দ উল্লাস উপভোগ করেছে।









