- মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট
- লাইব্রেরি, বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও কম্পিউটার ল্যাব নেই
১৯২১ সালের পহেলা জানুয়ারি ইসলামি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পাটোয়ার গ্রামে পাটোয়ার ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন মাও. কাজী রুহুল আমিন (রহ.) নামে এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তি। তবে, শত বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট। পাশাপাশি নেই লাইব্রেরি, বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও কম্পিউটার ল্যাব। পাশাপাশি শিক্ষকরাও নিয়মিত ক্লাস না করার কারণে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ ঘাসে ভরা মাঠের তিন পাশে একতলা বিশিষ্ট জরাজীর্ণ তিনটি ভবন দাঁড়িয়ে আছে। দুটি ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস হচ্ছে আর একটি চলছে অফিস কর্যাক্রম। শ্রেণিকক্ষগুলোর দরজা জানালা ভাঙা। ভবনগুলো থেকে আস্তর খসে পড়ছে। আতঙ্কে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। কখন যে মাথায় পড়ে এসব কিংকিট। নবম-দশম শ্রেণিতে ক্লাস করছেন ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থী। গাদাগাদি করে বসে আছেন তারা। সাংবাদিকদের উপস্থিত টের পেয়ে শ্রেণিকক্ষে ছুটা ছুটি করছেন স্ব-স্ব বিষয়ের শিক্ষকরা। এর আগে কিছু শিক্ষক মাদ্রাসার সামনে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতেছেন। আর কিছু শিক্ষক মাদ্রাসার অফিস কক্ষে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।
জানা যায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম নূরুন্নবী রহমানী রয়েছেন ছুটিতে। তার সঙ্গে রয়েছে শিক্ষকদের কোন্দল। নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগে গত তিন বছর ধরে ৭জন শিক্ষকের উচ্চতর গ্রেডের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। এদিকে উন্নয়নের জোয়ারে দেশ যখন ভসাছে, ঠিক সেই মুহুর্তে এক তালা বিশিষ্ট ভবন দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ডিজিটাল যুগে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিতে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতেও রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা। অধ্যক্ষ ও সভাপতির লোক হলে সব কিছু মাপ। সবকিছু মিলিয়ে মাদ্রাসাটিতে রয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলেই বছরের পর বছর পড়ে থাকবে অন্ধকারে। আলোর মুখ দেখবেনা কখনোই।
মাদ্রাসা অফিস সূত্র জানায়, প্রথম শ্রেণি থেকে ফাজিল ডিগ্রি পর্যন্ত ৫৭০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেন। নিয়মিত ক্লাস করেন ৫০ভাগ শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানের জন্য ১৮জন শিক্ষক ও ৬জন কর্মচারি। যদিও থাকার কথা ২৪জন শিক্ষক। গত ৫ বছর ধরে বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে রয়েছে শত ভাগ পাশ। অপরদিকে অধ্যাপক আবুল খায়ের মাসুম, মতিউর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক শাহাআলম, সাইদুর রহমান, লাইব্রেরিয়ান তোফায়েল ও কর্মচারি অজি উল্ল্যাহসহ এ ৭ জন নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগে গত তিন বছর ধরে উচ্চতর গ্রেটের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।
নাম না প্রকাশ করা শর্তে কয়েক জন শিক্ষক বলেন, শতবর্ষী মাদ্রাসাটিতে অধ্যক্ষের পছন্দ মতোন কমিটি হয়। কমিটি আসে যায়, তবে ভাগ্যবদল হয়নি প্রতিষ্ঠানটির। অথচ উপজেলার প্রায় বিদ্যালয়ে ৪তলা বিশিষ্ট ভবন রয়েছ। গত কয়েক বছর থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল শ্রেণিতে পাসের হার শতভাগ। ভবন সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীরা গাদাগাদি করে পড়ালেখা করে। অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে রয়েছে কোন্দল। যার ফলে অনেক শিক্ষকের উচ্চতর গ্রেডিং বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয় ছাত্র-ছাত্রীদের কয়েক জন অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শতবর্ষী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এ আধুনিক যুগে এসে অন্ধকারে রয়েছে। মাদ্রাসার ভিতরে ঢুকলে কান্না আসে। নাম মাত্রই দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। এলাকার পুরনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ছেলে মেয়েকে এখানে ভর্তি করি। তেমন কোন লেখা পড়া হয় না। বাড়িতে শিক্ষক রেখে প্রাইভেট পড়াতে হয়। অধ্যক্ষ এ এস এম নূরুন্নবী রহমানী স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল। তিনি নিজেই কমিটি সাজান। নিজকে অনেক বড় আলেম দাবি করেন। কাজের বেলাই কিছু নেই তার।
এ বিষয় পাটোয়ার ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম নূরুন্নবী রহমানী বলেন, উপজেলা মাধ্যমে শিক্ষা অফিস থেকে সব খানে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। ২০১৩ সাল এ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে তিনি অনেক কষ্ট করে আসছেন। ২০০৯ সালেরও একবার আলেম পরীক্ষা ফলাফল খারাপ করায় বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। তা অনেক কষ্ট করে চালু করেন। যে সব শিক্ষকের উচ্চতর গ্রেড বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে তা প্রক্রিয়াদিন রয়েছে। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি কাজী মোসাদ্দেক হোসেনের মুঠোফোনে বারবার কল দিও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন বলেন, বেতন ভাতা চালু হয়ে যাবে। তবে শিক্ষক, ভবনসহ নানা সঙ্কটের বিষয়ে কোনো উত্তর নেইনি তিনি। এ সব সংকট নিরসনের জন্য কমিটি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান মেহবুব বলেন, অর্থমস্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপি মহদোয়ের সঙ্গে কথা বলে শতবর্ষীয় এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির সব সংকট নিরসনের কাজ করবো।









