- অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলছে যানবাহন
বগুড়ার আদমদীঘিতে রক্তদহ বিলের খালের উপড় ২০০৬ সালে সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্বাবধানে ৬০.৯৬ মিটার দৈর্ঘ্য স্ট্রিল ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটি নির্মাণের ফলে বিলপাড়ের কদমা, করজবাড়ি, রামপুরা ও ময়ূর কাশিমালাসহ ৮-১০ গ্রামের মানুষের জীবনযত্রার চিত্র বদলে যায়। তবে ব্রিজটি উদ্বোধনের পর ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ করেননি কর্তৃপক্ষ। এতে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলছে যানবাহন ও জনসাধারন।
জানা যায়, উপজেলার কদমা মৎস্য খামারের নিকট ঐতিহাসিক রক্তদহ বিলের মূল খালের ওপর নির্মিত বেইলী ব্রিজটি ২০০৬ সালের ১৬ই মার্চ উদ্বোধন করা হয়। এতে বিলপাড়ের ১০ গ্রামের মানুষের প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কমে আসে। সহজেই তাদের কৃষিপণ্য ও শষ্য পরিবহন করা সম্ভব হয়। সহজ হয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াত। ব্রিজটি নির্মাণের পর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সংস্কার কাজ না করায় পাটাতনগুলো নষ্ট হওয়ার ফলে দিন দিন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্রিজটি নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজটি নির্জন এলাকায় হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বর্তমানে কিছু নেশাখোর ব্যক্তিরা ব্রিজটির রেলিংয়ের এ্যাংগেল ও নাটবোল্ট চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
করজবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, হাট-বাজার, স্কুল কলেজ, ব্যবসা বাণিজ্য ও জংশন স্টেশন থাকায় উপজেলার মধ্যে সান্তাহার পৌর শহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। ব্রিজটি নির্মাণের আগে সান্তাহার পৌঁছাতে আদমদীঘি হয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হতো। রক্তদহ বিলে বেইলি ব্রিজটি নির্মাণের ফলে কমে যায় ১০ কিলোমিটার পথ। বর্তমানে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও জীবন-জীবিকার ত্যাগিদে ঝুঁকি নিয়েই এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে পাটাতন ভেঙ্গে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের প্রাণের দাবি এখানে বেইলি ব্রিজের পরিবর্তে ঢালাই ব্রিজ নির্মাণের।
সান্তাহার ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ সুলতানা তৃপ্তি বলেন, মানুষ এক সময় নৌকায় আবার কেউ কেউ পানিতে সাঁতার দিয়ে বিল পার হয়ে সান্তাহারে আসতো। এখানে ব্রিজ নির্মাণে সান্তাহার শহরের সঙ্গে দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়। ফলে ঘুচে যায় ব্যবসা-ব্যাণিজ্যের দ্বার। সহজেই ট্রাক, ট্রাক্টর ও ট্রালিসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে শষ্যসহ অন্যান সব মালামাল আনা নেয়া করতে পারেন। তবে, এখন ব্রিজের যে অবস্থা এতে মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতেই ভয় লাগে। জনস্বার্থে ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।
আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, এ স্ট্রিলের বেইলি ব্রিজটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় রয়েছে। তাই এর দেখভাল বা মেরামতের ব্যবস্থা তারাই নিবেন।









