দীর্ঘদিন মেরামত না করায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে প্রধান সড়কের সেতুতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরপরও সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটি ভবানীগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কের দক্ষিণ চরভুতা গ্রামের বড় পোল ১ ও ২ নং ওয়ার্ড এলাকায় ব্রিজটি অবস্থিত। সেতুটির দুপাশে হাতা ভেঙে গুড়িয়ে খাল পড়ে গেয়েছে। ব্রিজটির অধিকাংশ পাটাতনের নির্মাণাধীন আস্তর ভেঙে খালে পড়ে গেছে। নিচের পিলারগুলো পেটে গেছে । এতে গাড়ি পারাপারের সময় বেশি শব্দ হয় এবং সেতু কেঁপে ওঠে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ১০ গ্রামের মানুষজনকে।
স্থানীয় আলী বলেন, চার যুগ আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে পাকাসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সেটি মেরামত করাও হচ্ছে না। এ কারণে ব্রিজটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
চালকরা জানান, যেহেতু সেতুটি মহাসড়ক থেকে উপজেলা সদরে প্রবেশের একমাত্র সড়কে অবস্থিত, সে কারণে হালকা ও ভারি সব ধরনের যান এটির ওপর দিয়ে চলাচল করে। ৯ টন ধারণক্ষমতার ট্রাকও এর ওপর দিয়ে পারাপার করতে হয়। ব্রিজের উপর চলাচলে আবরণ ভেঙে গেছে, হাতাগুলো নেই? পথচারি ও ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁরা দোয়া-দরুদ পড়ে সেতুটি পার হন।
শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, প্রায়ই মালভর্তি ট্রাক নিয়ে সেতুটি পার হতে হয়। সে সময় ব্রিজ (বেইলি সেতু) কাঁপে, লগে ভয়ে আমিও কাঁপি। তখন দোয়া দুরুদ পড়ে পার হই।’ এক বছরের মধ্যে কয়েকবার ট্রাক, গরু, সাধারণ পথচারি ব্রিজ ভেঙে খালে পড়েছে।
স্থানীয় আব্দুল হালিম মাস্টার জানান, ব্রিজটির ওপর দিয়ে হেঁটে পার হওয়ার সময়ও অনেকের পা পাটাতনের রডের ফাঁকে পা আটকে যায়। পা কেটে গিয়ে রক্ত ঝরে। অতি দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় ফজলুর রহমান ঢালী জানান, ভবানীগঞ্জ বড় পোল দিয়ে ১০ গ্রামের কৃষক, গরু, মহিষ, ছাগল পারাপারে পাশাপাশি ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজি, ট্রাক, কার, মাইক্রো, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলও যাতায়াত করে।
প্রায় প্রতিদিন ব্রিজটিতে হাতা না থাকায়, গরু, ছাগল ব্রিজের নেচে পড়ে যায়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। দুই দিন আগেও এক দিনে তিনবার গাড়ি আটকে যানজট তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
ইউপি সদস্য মোতাহের আলী জানান, সরেজমিনে গিয়ে ভাংঙ্গা ব্রিজটি দেখে আসছি, জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চেয়াম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্রিজটি পুর্ণনির্মাণ করার জন্য সকল ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী শাহ আলম পাটওয়ারী বলেন, এ কথা ঠিক যে সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে সব ধরনের যান চলে। এ কারণে ব্রিজটি সংস্কার করার কাজ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে নির্মাণধীন কাজ শুরু করা হবে।









